বইয়ের পরিচয়

"অপরাহ্ন" বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে নেওয়াআমাদের সমাজে চিরাচরিত একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে, তা হলাে বাবার পরে ছেলেকে সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে- মেয়েকে নয়। মেয়েদেরকে পরের বাড়িতে যাবার জন্য বাবা-মাকে মানুষ করতে হয়। এই প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে বেড়িয়ে এসে বাবার অবর্তমানে মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ে কিভাবে সংসারটিকে আগলিয়ে রেখেছে- সে চিত্রই সামগ্রিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে ‘অপরাহ্ন’ উপন্যাসটিতে। মেয়েকে শুধুমাত্র বিয়ের জন্য লেখা-পড়া শেখানাে নয়- বরং অল্প শিক্ষিত হয়েও শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তির কারণে কোনাে মেয়ে তার নিজ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারে- তার স্পষ্টতঃ প্রমাণ মেলে এই ‘অপরাহ্ন’ উপন্যাসে। ছেলেমেয়েতে কোনাে তফাৎ নয়- উদার মন-মানসিকতায় মেয়েদের মনােবল তৈরিতে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার সচেতন হলে বদলে যাবে সমাজের পুরােনাে ধ্যান-ধারণা। আর এই উদ্দেশ্যকে তুলে ধরবার ক্ষুদ্রতম প্রয়াস ‘অপরাহ্ন' উপন্যাসটি।-কথাসাহিত্যিক মঈনুদ্দিন কাজল

লেখক পরিচিতি

হুমায়ূন আহমেদ

1948 – 2012

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার অভূতপূর্ব সৃষ্টি হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →