বইয়ের পরিচয়

“অসমাপ্ত আত্মজীবনী" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃস্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি, দেশগৌরব নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বােস তাঁর নিজের বাবা-মা, পরিবার, শৈশবকাল, বেড়ে ওঠা এবং ক্যাম্বিজের জীবন নিয়ে রচনা করেছেন এই আত্মজীবনী। নেতাজী এই আত্মজীবনী তার জীবদ্দশায় শেষ করে যেতে পারেননি। তাই এটা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বােস-এর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' শিরােনামে প্রকাশ পেয়েছে। নেতাজী তার ঘটনাবহুল জীবনের ঘটনাগুলাে এবং ঘটনাগুলাের বিশেষণ করেছেন ভিন্ন আঙ্গিক দিয়ে। তার ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার-বিশেষণের ক্ষমতা তার বৈচিত্রপূর্ণ জীবনকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলেছে। একজন ২৪ বছর বয়সী যুবকের সামনে যখন একটি পথ বিদ্যমান থাকে এবং তাকে সেই পথের কোনাে একটি পথ বেছে নিতে হয়-তখন তার সিদ্ধান্ত কী হবে? তার উপর একটি পথে যদি থাকে যাবতীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, বিলাসিতা এবং অপর পথ যদি হয় কাঁটাময় তবে সে কোন পথটি বেছে নেবে? নেতাজী ঠিকই বেছে নিয়েছিলেন প্রস্তরময়। সেই দুর্গম পথ। কারণ তার মধ্যে ছিল দেশমাতার প্রতি অপরিসীম ভালােবাসা এবং স্বদেশি মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববােধ।

লেখক পরিচিতি

শেখ মুজিবুর রহমান

1920 – 1975

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫), সংক্ষিপ্তাকারে শেখ মুজিব বা বঙ্গবন্ধু, ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। শুরুতে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি, এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের প্রয়াস এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। জনসাধারণের কাছে তিনি “শেখ মুজিব” বা “শেখ সাহেব” নামে এবং তার উপাধি “বঙ্গবন্ধু” হিসেবেই অধিক পরিচিত। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা। পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনে প্রায় ১৩ বছর কারাভোগ করেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন, যাকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবি ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়; তবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →