বইয়ের পরিচয়

হাজারি ঠাকুর, একজন মধ্যবয়সী বাঙালি ব্রাহ্মণ, উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র। পেশায় তিনি রাঁধুনী, রানাঘাট স্টেশনের রেল বাজারে বেচু চক্রবর্তীর ছোট খাবার হোটেলে কাজ করেন। হোটেলের বিক্রেতারা প্রায়শই প্রতারণা করত, বিশেষ করে হোটেলে ঝি পদ্ম অহরহ হোটেলের খাবার চুরি করত। হাজারি ঠাকুর এগুলোর বিপক্ষে হলেও কেবল রাঁধুনী হওয়ায় তাঁর কিছু বলার অধিকার ছিল না। তাছাড়া পদ্ম ঝি তাঁকে সুযোগ পেলেই উপহাস ও অপমান করত। ফলে হাজারি ঠাকুর তাঁর নিজের হোটেল চালু করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।ঘটনাক্রমে একদিন হোটেলের বাসন চুরি হয়ে যায় এবং পুলিশ নির্দোষ হাজারি ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করে। একইসাথে তাঁর চাকরিও চলে যায়।চোরের অপবাদ ঘাড়ে হতোদ্যম হাজারি ঠাকুর বেরিয়ে পড়েন ভাগ্যান্বেষণের আশায়। তবে তাঁর মনে অটুট থাকে নিজের একটি হোটেল খোলার স্বপ্ন । নতুন করে শুরু হয় হাজারি ঠাকুরের জীবনসংগ্রাম।বহুদেশ ঘুরে অভিজ্ঞ হাজারি ঠাকুর নিজের মেয়ের মতন ঘোষ গোয়ালিনী কুসুম, গ্রামের অবস্থাপন্ন হরিচরণবাবুর মেয়ে অতসী এবং একজন অপরিচিত গৃহবধূর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অবশেষে নিজের হোটেল খুলতে সক্ষম হন। এখানে তিনি তাঁর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে যোগ করেন নিজের সর্বোচ্চ পরিশ্রম। ফলে সামান্য সময়ের মধ্যেই তার হোটেলটি এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় হোটেলে পরিণত হয়।উপন্যাসের শেষে হাজারি ঠাকুরের জনপ্রিয়তা রানাঘাট থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বোম্বাইয়ের বিশাল হোটেল পরিচালনার জন্য ডাক পড়ে তাঁর। হাজারি ঠাকুর রওনা দেন বোম্বাইয়ের পথে, পেছনে পড়ে থাকে তার সংগ্রাম মুখর দিনগুলো।

লেখক পরিচিতি

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

1894 – 1950

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১২ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ – ১ নভেম্বর ১৯৫০) ছিলেন একজন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তাঁর সবচেয়ে বেশি পরিচিত উপন্যাস। অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আরণ্যক, চাঁদের পাহাড়, আদর্শ হিন্দু হোটেল, ইছামতী ও অশনি সংকেত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসের পাশাপাশি বিভূতিভূষণ প্রায় ২০টি গল্পগ্রন্থ, কয়েকটি কিশোরপাঠ্য উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনি এবং দিনলিপিও রচনা করেন। বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। বিভূতিভূষণের অধিকাংশ উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়েছে। ১৯৫১ সালে ইছামতী উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন। == জন্ম ও পরিবার == বিভূতিভূষণ বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার কাঁচড়াপাড়ার নিকটবর্তী মুরাতিপুর গ্রামে নিজ মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁর নিকট বারাকপুর গ্রামে। তবে তাদের আদিবাস ছিল উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত পানিতর গ্রাম৷ তার প্রপিতামহ ছিলেন কবিরাজ এবং তিনি বনগাঁর নিকট বারাকপুর গ্রামে কবিরাজি করতে আসতেন৷ তার পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন প্রখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত। পাণ্ডিত্য এবং কথকতার জন্য তিনি শাস্ত্রী উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। মাতা মৃণালিনী দেবী। পিতামাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে বিভূতিভূষণ বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। == শিক্ষাজীবন == পিতার কাছে বিভূতিভূষণের পড়ালেখার পাঠ শুরু হয়। এরপর নিজ গ্রাম ও অন্য গ্রামের কয়েকটি পাঠশালায় পড়াশোনার পর বনগ্রাম উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →