আমি রুশো বলছি : দি কনফেশানস বইয়ের প্রচ্ছদ

আমি রুশো বলছি : দি কনফেশানস

লেখক: সরদার ফজলুল করিম

পৃষ্ঠা: 176

ISBN: 978 984 04 3331 5

বইয়ের পরিচয়

ফ্ল্যাপে লিখা কথাজ্যাঁ জ্যাক রুশো সপ্তদশ শতাব্দীর একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন। রাজনীতি, সমাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর একটি নিজস্ব মূল্যবোধ ছিল। মেধা ও মননের চর্চার মাধ্যমে তার প্রতিভার যে বিকাশ সাধন হয় , মানসিক শুদ্ধতায় তা আমাদের শুধু বিমুগ্ধ করে না, এই বিশ্বের কল্যাণ সাধনে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। তা বিশ্ববিখ্যাত আত্নককাহিনী The Confessions ফরাসি ভাষায় লিখছিলেন। পরবর্তীকালে ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করা হয়। বাংলা ভাষায় এই প্রথম অনুবাদ হলো। যিনি এই দুঃসাধ্য কাজটি করলেন তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা গবেষক ও লেখক সরদার ফজলুল করিম। রাজনীতির শিক্ষা তার যথেষ্ট ছিল, রাজনীতি করেছেনও তিনি। পাকিস্তানের কারাগারে তা বন্দিজীবন কেটেছে। রাজনীতি থেকে সরে এসে তিনি অধ্যয়ন ও গবেষণার কাজটি শেষপর্যন্ত বেছে নেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি দর্শনের ছাত্র ছিলেন । যুক্তির দৃষ্টিতে বিশে।লষণ করতে শিখেছেন তার জীবন ও জগৎকে। তিনি নিজেকে মহামতি রুশোর ভুতগ্রন্থ হিসেবে পরিচয় দিতে খুব আনন্দ পেয়ে থাকেন। রুশোর এই আত্নকাহিনী দীর্ঘসময় ধরে তিনি পড়েছেন, উপলব্ধি করেছেন ও বিচার বিশ্লেষণ করেছেন তার পর বাংলা ভাষায় লিখেছেন। রুশোর ব্যক্তি জীবন প্রচন্ড রকম ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ ছিল, তার পরও তিনি দৃঢ়ভাবে সঙ্গে সত্যকথা গুলো লিখেছেন। সত্য যতই কঠিন হোক ও নিষ্ঠুর হোক না কেন, রুশোর আত্নকাহিনী আমাদের অনেক কিছু ভাবতে সাহায্য করবে। সরদার ফজলূল করিম বড় শান্তিপ্রিয় ও ধৈর্যশীল মানুষ বলেই একান্ত আপনমনে এমন একটি প্রাণবন্ত গ্রন্থের বাংলা রূপান্তর করে পাঠক হৃদয়ে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকবেন। আমাদের সাহিত্যাঙ্গনে এ গ্রন্থটি একটি অমর কীর্তি হয়ে উঠবে, এ প্রত্যাশা রাখছি।

লেখক পরিচিতি

সরদার ফজলুল করিম

1925 – 2014

সরদার ফজলুল করিম (মে ১, ১৯২৫-জুন ১৫, ২০১৪) বাংলাদেশের বিশিষ্ট দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, প্রবন্ধকার। সরদার ফজলুল করিম ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী সমাজসংস্কারক, যিনি বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে ইসলামিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর চিন্তা ও উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা স্থানীয় সমাজের নৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে অবদান রাখে। সরদার ফজলুল করিমের পারিবারিক প্রেক্ষাপটও ছিল প্রশাসন ও সমাজসেবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাঁর বড় ভাই মনজে আলী সরদার ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পরবর্তী বাংলাদেশের একজন ডেপুটি কালেক্টর। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে মনজে আলী সরদার শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেন। সরদার ফজলুল করিমের জীবনে আরেকজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী রাজ ই আলী হাওলাদার (ম্যাভাই)। তিনি একজন দানশীল সমাজনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় নৈতিক ও বাস্তব সহযোগিতা প্রদান করেন। সরদার ফজলুল করিম, মনজে আলী সরদার এবং রাজ ই আলী হাওলাদার (ম্যাভাই)-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আটিপাড়া মাঈনুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই অঞ্চলে ইসলামিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং বহু শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছে। সরদার ফজলুল করিমের অবদান মূলত ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দূরদর্শিতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক শিক্ষাভাবনার প্রতিফলন, যা স্থানীয় ইতিহাসে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →