বইয়ের পরিচয়

"কত না অশ্রুজল" বইটির প্রথম অংশ থেকে নেয়াঃএ বইয়ে আছে গত বিশ্বযুদ্ধে যারা জড়িয়ে পড়েছিল, অর্থাৎ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সৈনিকরূপে একে-অন্যকে নিধন করতে হয়েছিল, তাদের শেষ চিঠি, ডাইরির শেষ পাতা। এ বিশ্বযুদ্ধ থেকে অল্প দেশই রেহাই পেয়েছিল সেকথা আমরা জানি। শান্তিকামী ভারত, এমনকি যুদ্ধে যােগদান না করেও নিরীহ এসৃকিমােও এর থেকে নিষ্কৃতি পায়নি।এবং শুধু তাদেরই লেখা নেওয়া হয়েছে যারা এ যুদ্ধে নিহত হয় বা যুদ্ধে মারাত্মকরূপে আহত হওয়ার ফলে যুদ্ধের কয়েক বৎসর পরেই মারা যায় কিংবা যারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহুদূরে শান্তিপূর্ণ দেশে বাস করার সময় যুদ্ধের বীভৎসতা, আত্মজন বিয়ােগের শােকে কাতর হয়ে আত্মহত্যা করে।কিন্তু এত দীর্ঘ অবতরণিকা করার কণামাত্র প্রয়ােজন নেই। দুএকটি চিঠির অনুবাদ পড়ে সহৃদয় পাঠক বুঝে যাবেন, এ অবতরণিকা কতখানি বেকার।গত যুদ্ধে ফ্রান্স পরাজিত হলে পর জর্মন সৈন্যরা সেখানে কায়েম হয়ে দেশটাকে অকুপাই’ করে। সঙ্গে সঙ্গে বহু ছেলেমেয়ে, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা গড়ে তােলে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মুভমেন্ট’। তারা মােকা পেলে জর্মন সৈন্যকে গুলি করে মারে, রেললাইন, তাদের বন্দুক-কামানের কারখানা ডাইনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় এবং আরাে কত কী! এ প্রতিষ্ঠানটি আমাদের আপন দেশেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অজানা নয়।

লেখক পরিচিতি

সৈয়দ মুজতবা আলী

1904 – 1974

সৈয়দ মুজতবা আলী (উচ্চারণ: /ˈsoi̯̯ɔd̪ ˈmud͡ʒt̪ɔbaˑ‿ˈaliˑ/ (); ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯০৪ – ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক, ভ্রামণিক, একাডেমিক, পণ্ডিত ও বহুভাষী। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও অধ্যয়ন ও চাকরিসূত্রে আফগানিস্তান, মিসর এবং ইউরোপে বসবাস করেছেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ভ্রমণকাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তাঁর রচনা একইসঙ্গে পাণ্ডিত্য ও রম্যবোধে পরিপুষ্ট।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →