বইয়ের পরিচয়
কুমারসম্ভবের কবি(কিছু অংশ)একালের কথা নয়, কালিদাসের কালের কাহিনী।জনাকীর্ণ নগরীর রাজপথ দিয়া এক হরিচন্দন চিত্রিত হস্তী রাজকীয় মন্থরতায় হেলিয়া দুলিয়া চলিয়াছে। স্কন্ধে অঙ্কুশধারী মাহুত; পৃষ্ঠের মহার্ঘ কারু খচিত আসনের উপর বসিয়া ঘোষক পটহ বাজাইতেছে। ঘোষকের দুই হস্তে দুইটি মুষলাকৃতি পটহ- দণ্ড দ্রুতচ্ছন্দে পটহচর্মের উপর আঘাত বৃষ্টি করিতেছে।চারদিকে নাগরিকের জনতা। সকলেই ঘোষকের জ্ঞাপনী শুনিবার জন্য উৎসুক ঊর্ধ্বমুখে হস্তীর সহগমন করিতেছে। পথপার্শ্বের দ্বিতল ত্রিতল হর্মগুলির গবাক্ষে অলিন্দে কুতূহলী নাগরিকাদের মুখ লোভনীয় পশ্চাৎ পটের সৃষ্টি করিয়াছে। জনতার কোলাহল ও পটহের রোল মিশিয়া বিচিত্র ধ্বনি-কল্লোল উত্থিত হইতেছে।ডিণ্ডিম-ধ্বনি সহসা স্তব্ধ হইল। ঘোষক দৃপ্তভঙ্গীতে দক্ষিণ হস্ত ঊর্ধ্বে তুলিতেই জনতার কোলাহলও শান্ত হইয়া গেল। ঘোষক তখন শঙ্খের ন্যায় গম্ভীরস্বরে ঘোষণা আরম্ভ করিল—‘ভো ভোঃ! শোন সবাই।——মহারাষ্ট্র কুন্তল দেশের কুমার-ভট্টারিকা পরমবিদুষী রাজকন্যা হৈমশ্রী স্বয়ংবরা হবেন। সামন্ত-শ্রেষ্ঠী, চণ্ডাল-পামর, সকলে শ্রবণ কর—জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সকলে এই স্বয়ংবর সভায় যোগ দিতে পারবে—'