বইয়ের পরিচয়

ভূমিকামাইকেলের যুগ: কোনো কবিকে বুঝিতে হইলে তাঁহার যুগকে বুঝিতে হয়, কবির জীবনকেও বুঝিয়া লইতে হয়। শিক্ষিত বাঙালির প্রথম কবি মাইকেল মধুসূদনকে বুঝিতে হইলে তিনি যে যুগে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন সেই যুগের পরিচয়, বিশেষ করিয়া সেই যুগের সাহিত্যিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অপরিহার্য। কারণ, সাহিত্যের ইতিহাসে যখনই কোনো প্রতিভার আবির্ভাব ঘটিয়াছে, তখনই আমরা দেখিতে পাই, সেই যুগের প্রভাব তাহার উপর আসিয়া পড়িযাছে এবং সেই যুগও তাহার দ্বারা অল্প-বিস্তর প্রভাবিত হইয়াছে। ইহাই নিয়ম।

লেখক পরিচিতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

1824 – 1873

মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ – ২৯ জুন, ১৮৭৩) ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার। হিন্দু কলেজে পড়াশোনা করার সময় মধুসূদন প্রথম কাব্যচর্চা শুরু করেন। তাঁকে বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মনে করা হয়। ঐতিহ্যের অনুবর্তন অগ্রাহ্য করে তিনি কাব্যে নতুন রীতি প্রবর্তন করেন। বাংলা ভাষায় তিনিই অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও চতুর্দশপদী বা সনেটের প্রবর্তক। বাংলাদেশের যশোর জেলায় সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে মধুসূদনের জন্ম। যৌবনে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তিনি "মাইকেল মধুসূদন দত্ত" নাম গ্রহণ করেন এবং পাশ্চাত্য সাহিত্যের দুর্নিবার আকর্ষণে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মধুসূদন নিজের মাতৃভাষার প্রতি মনোযোগী হন। এই পর্বে তিনি বাংলায় মহাকাব্য, চতুর্দশপদী কবিতা, নাটক ও প্রহসন ইত্যাদি রচনা করেছেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। মধুসূদনের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় ও বেদনাঘন। মাত্র ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সে কলকাতায় এই মহাকবির মৃত্যু হয়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →