বইয়ের পরিচয়
যে সমস্ত শক্তি মানবজাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে এসেছে এবং আজও করে চলেছে, তার মধ্যে যে শক্তি ধর্মের প্রকাশ ঘটিয়েছে, সেই শক্তিই নিশ্চিতরূপে সবচেয়ে বড়। সব সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পশ্চাদপটেই আছে সেই অদ্ভুত শক্তির ক্রিয়া এবং ব্যক্তি মানুষ এই শক্তি থেকে সমাজবদ্ধ হয়ে ওঠা প্রবৃত্তি ও পেরণা লাভ করেছে। এটা আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বহু ক্ষেত্রে জাতিগত, পরিবেশগত বা বংশগত বন্ধনের চেয়ে ধর্মের বন্ধন যে অধিকতর শক্তিশালী সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এটা এক অতিপরিচিত ঘটনা যে, যেসব মানুষ একই দেবতার উপাসনা করে এবং এক ধর্মে বিশ্বাসী, তারা একই বংশের লোক বা সহোদর ভাইদের থেকে বেশী শক্তি ও সততার সঙ্গে প্রয়োজন হলে পরস্পরের পাশে এসে দাঁড়ায়। ধর্মের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক চেষ্টা ও অনুসন্ধান হয়েছে। যে সকল প্রাচীন ধর্ম বহু যুগ অতিক্রম করে আজ আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে, তাদের বক্তব্য একটাই এবং সেটা হলো এই যে ধর্ম অতিপ্রাকৃত বস্তু এবং তার উৎপত্তি মানুষের মস্তিষ্কে হয়নি, তার উৎপত্তি হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের বাইরে কোথাও।