বইয়ের পরিচয়

বই পরিচিতিঅত্যন্ত হাস্যরসিক চরিত্র ডমরুধর। ডমরুধরের নানান কীর্তি, অ্যাডভেঞ্চার, রূপকথা, রম্য এবং সামাজিক বিভিন্ন কাহিনি নিয়েই ডমরু-চরিত। প্রথম জীবনে বেশ দরিদ্র ছিল ডমরুধর, তারপর বুদ্ধি খাটিয়ে কীভাবে ধনার্জন করেছে, দুর্গোৎসবের সময় তার ঠাকুর দালানে বসে সেইসব গল্প করে বন্ধুদের সঙ্গে। সবাই আজগুবি গল্প বলে টিপ্পনী কাটে কিন্তু ডমরুধর দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তার গল্পে কখনো সে যমালয়ে ভ্রমন করেছে, কখনো আবার কার্তিক বহনে চড়ে ত্রিভুবন দর্শন করেছে। এ ছাড়াও ভণ্ড সাধু, ভালোমানুষ ভূত, বোগদাদি জ্বিন, সুন্দরবনের বাঘ ইত্যাদির গল্প চলে আসে তার আড্ডায়।ডমরু-চরিত-এর আনন্দময় পাঠ শিশু-কিশোরদের কল্পনার দুনিয়াকে সমৃদ্ধ করে আসছে প্রায় এক শ বছর ধরে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এ রম্য রচনা নতুন প্রজন্মের জন্য অবশ্য পাঠ্য।

লেখক পরিচিতি

ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

1847 – 1919

ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (২২ জুলাই ১৮৪৭ - ৩ নভেম্বর ১৯১৯) ছিলেন একজন বাঙালি সাহিত্যিক। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ব্যঙ্গকৌতুক রসের স্রষ্টা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। ত্রৈলোক্যনাথের কর্মজীবনের সূচনা ঘটে স্কুল শিক্ষকতার মাধ্যমে। পরবর্তীকালে তিনি বিভিন্ন ধরনের পেশায় নিযুক্ত হন এবং ভারত সরকারের প্রতিনিধি হয়ে দুই বার ইউরোপের একাধিক রাষ্ট্রে কর্মসূত্রে কিছুকাল করে অবস্থান করেন। মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও তিনি ফারসি, ওড়িয়া ইত্যাদি কয়েকটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তার রচিত বইগুলির মধ্যে কঙ্কাবতী, ভূত ও মানুষ, ফোকলা দিগম্বর, ডমরু চরিত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ইংরেজি ভাষাতেও তিনি কয়েকটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্মন্ধে যা জানা যায়, হঠাৎ অসাবধানতাবসত বুকে ঝর্ণা কলম (ফাউনটেন পেন) ফুটে আহত হন, এবং তারপরেই ৩রা নভেম্বর ১৯১৯ সালে এই মহান সাহিত্যিক মৃত্যুমুখে পতিত হন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →