তিস্তাপারের বৃত্তান্ত
পৃষ্ঠা: 504
ISBN: 9788129519214
বইয়ের পরিচয়
"তিস্তাপারের বৃত্তান্ত" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:১৯৭০-এর দশকেরই কোনাে একটি সময় উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জিলার ডুয়ার্সের। তিস্তা-সন্নিহিত অঞ্চলে সেটলমেন্টের জরিপের কাজ চলছিল। ডুয়ার্সের জমি-বড়-বড় জোতে, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের অধীনে ফরেস্টে, চা-বাগানে, হাজার রকম জটিলতার গিটে জড়ানাে গয়ানাথ জোতদার। তেমনই এক জমির মালিক, গিরি’। সে ডুয়ার্সে এই সব জমিই তার দখলে রাখে ও রাখতে চায়। নদীর তলার মাটি ও বন্যায় উপড়নাে শালগাছও। প্রায় সমতুল্য লােভী ও বেআইনি দখলদার এখানকার চা-বাগানগুলিও। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বসবাস প্রধানত রাজবংশী জনগােষ্ঠীর মানুষজনের ও সাঁওতাল-কোল-মুণ্ডাদের, যাঁদের স্থানীয় নাম মদেশিয়া। তিস্তার চরে পূর্ববঙ্গের কৃষকরা বসতি গেড়ে এখানকার কৃষিকাজের একেবারে আমূল বদল ঘটিয়েছেন। নানারকম স্বার্থ নিয়ে নানা জনগােষ্ঠীর বিরােধ রাজনীতি ও সংস্কৃতিতেও ধরা পড়ে যায়। রাজ্য সরকার তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করে প্রচলিত উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসে এই অঞ্চলকে। এই বিচিত্র, বিপুল, বিস্তারিত জনজীবনের এত সব বদলের ভিতর থেকে তৈরি হয়ে ওঠে বাঘারু নামে এক মানুষ। যে এখানকার আদি মানুষদের একজন। তার বাপ কে সে তা জানে না। তার মা তাকে প্রসব করেছিল গভীর ফরেস্টে। তাকে বেঁচে থাকার জন্য বাঘের সঙ্গে হাতাহাতি লড়তে হয়েছিল। এখন তার পরিচয় সে গয়ানাথ জোতদারের মানষি, বাঘারু। শেষ পর্যন্ত এই পরিচয়হীন বাঘারু, তার জন্মেরও আগের পরিচয় নিয়ে এই উন্নয়ন, সমাজ, চা-বাগান, জোতজমি ছেড়ে চলে যায়—মাদারি নামে এক বালককে সঙ্গে নিয়ে।