বইয়ের পরিচয়

"তেইল্যা চোরা" বইয়ের ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃফজর আলীকে ঘুম পাড়াতে পারছে না। মেঝেতে উপুড় হয়ে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে আছে সে। তার বুক ফেটে কান্না আসছে। প্রফেসর ফজরের পিঠে হাত রাখলাে। জিজ্ঞেস করলাে, “কী হয়েছে। ফজর?” ফজর কুর্তার আস্তিন দিয়ে চোখ মুছে বলল, “স্যার আমি এইখানে থাকলে মইরা যামু।” “এইখানের খাওয়া-দাওয়া, পরিশ্রম সব একসময়। তােমার শরীর মানিয়ে নিবে।” “না স্যার, খাওনের কষ্ট সহ্য করতে পারুম, আমগাে জীবনে এর চেয়ে বেশি কষ্ট পাইয়া আইছি।” “তাহলে কী হয়েছে?”“আমার পােলাডার চেহারা ভুইল্যা গেছি স্যার, মনে করতে পারি না। আমি আমার মজিদের চেহারা মনে করতে পারি না।” “আমি জানি তােমার কেমন লাগছে। প্রিয়জনদের চেহারা বেশিদিন মনে রাখা যায় না, মন ভুলিয়ে দেয়, যাতে চোখ বারবার তাদের দেখে সেজন্যই। তারা প্রিয়জন “স্যার আমি এইখান থেইক্যা পলাইয়া যামু।” । “সবাই আমাকে পাগল বলে, কিন্তু তুমি এখন। পাগলের মতাে কথা বলছাে। তেরােটা বুলেটের। কথা মনে আছে?” “মরণের ভয় নাই, এইখানে প্রত্যেকদিন মরি।”

লেখক পরিচিতি

ওবায়েদ হক

1911 – 2007

ওবায়েদ উল হক (জন্মঃ ৩১ অক্টোবর, ১৯১১ - মুত্যুঃ ১৩ অক্টোবর, ২০০৭) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাংবাদিক। তিনি একাধারে একজন লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, সুরকার, গীতিকার। তিনি দীর্ঘকাল ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ অবজার্ভার-এর সম্পাদক-এর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →