তোমাদের জন্য ভালোবাসা বইয়ের প্রচ্ছদ

তোমাদের জন্য ভালোবাসা

লেখক: হুমায়ূন আহমেদ

পৃষ্ঠা: 64

ISBN: 9789843992222

বইয়ের পরিচয়

এজাজ রাকিবকে রুমে ডাকল।‘রাকিব, একটা নতুন এসাইনমেন্ট পেয়েছি। নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে হবে।’‘আমরা সাক্ষাৎকার নিতে পারি, মামা।’‘নাহ, সাক্ষাৎকারে মানুষ ডিপ্লোমেটিক থাকে। মনের কথা জানতে হবে। এখন যেই অবস্থা, সাক্ষাৎকার নিতে গেলে মাইরও খাওয়া লাগতে পারে। আমি তোর জন্য চা - শিঙাড়ার দোকানে হেল্পারের কাজ ঠিক করেছি। সেখানে মানুষ আড্ডা দেয়, মনের কথা বলে। একটা রেকর্ডার দিব। গোপনে রেকর্ড করে ফেলবি।’‘মামা, আমি মানুষকে চা শিঙাড়া দিবো? কেউ দেখলে কি বলবে? কখনো চা শিঙাড়া বানাই নাই। ইকোনমিক্স থেকে পাশ করে একজন প্রধান উপদেষ্টা, আর আমি বেচব চা, শিঙাড়া?’‘আহ, চা, শিঙাড়া তোকে বানাতে হবে না। শুধু কাস্টোমার, টেবিল মোছা, জিনিসপত্র ধোয়া, আর ফাঁকে ফাঁকে গোপনে রাজনীতির আলাপ রেকর্ড। লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে কাজ, কে তোকে চিনবে? কথায় একটু বরিশালের টোন। ব্যাস। সাতদিনে সাতশ টাকা আর টিপস। অফিসের বেতন তো আছেই। খুব ইন্টারেস্টিং আইডিয়া।রাকিবের মোটেই ইন্টারেস্টিং মনে হলো না। মামার অফিসে সে ম্যানেজিং ডিরেক্টর। মামা চেয়ারম্যান। এখন তাকে চা শিঙাড়ার দোকানে কাজ করতে হবে? এজাজ রাকিব কে বুঝিয়ে রাজি করল। তাদের দুজনের রিসার্চ ফার্ম, ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড, সুযোগটা নেওয়া দরকার।কাজেই রাকিবের জন্য লুঙ্গি কেনা হলো, স্যান্ডো গেঞ্জি কেনা হলো, লুঙ্গি পরে হাঁটা প্রাকটিস করানো হলো, একটু পরপর খুলে যায়, বড়োই সমস্যা। সিদ্ধান্ত হলো লুঙ্গির নিচে হাফপ্যান্ট পরবে। ধোয়াধুয়ি প্রাকটিস করতে গিয়ে কিছু চায়ের কাপ ভাঙল। জুনের এক শুক্রবার রাকিব “ফাইভ স্টার চা এবং শিঙাড়ায় হেলপার হিসাবে জয়েন করল।২চা শিঙাড়ার স্টলে প্রথম দুদিনের অভিজ্ঞতা খারাপ হলো না। এজাজ মামা ঠিক বলেছে। চায়ের দোকানে মনে হয় সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক আলোচনা হয়। সবাই আসে। ধনী, গরিব, রিকশাওয়ালা, ছাত্র - কে আসে না? চা খেতে খেতে মূল আলোচনা রাজনীতি আর নির্বাচন। সবাই জ্ঞানী।৫ জন ছাত্র আসলো প্রথমদিন। চা শিঙাড়া খেতে খেতে আলোচনা। সংস্কার শেষ না হয়ে নির্বাচন! কোন মানে আছে! তবে নির্বাচনও দরকার। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। এবারের নির্বাচনে হয়তো পারা যাবে না। কিন্তু মানুষের কাছে যাওয়া যাবে। ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চয়। তাছাড়া তরুণদের শক্তি ফেসবুক, টুইটার, সোস্যাল মিডিয়া। ভালো কিছু ক্যান্ডিডেট দাঁড় করিয়ে সোস্যাল মিডিয়া ঠিকমতো ব্যাবহার করলে খারাপ হবে না।স্কুলের দুজন শিক্ষক আসলেন একদিন। একজন বললেন‘আমি তো সবসময় বিএনপিকে ভোট দেই। তুমি দাও আওয়ামী লীগ। এবার যদি তোমার এলাকায় আওয়ামী লীগ না থাকে?’দ্বিতীয় জন বললেন,‘তাহলে যে ভালো তাকে দিব। আমি বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগ ভুল শুধরে ফিরে আসবে। কত সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের সাপোর্টার! ভুল শুধরে ফিরে আসবেই। সে পর্যন্ত গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে। নির্বাচন দিয়ে শুরু হোক।’পাশের মসজিদের ইমাম সাহেব মুয়াজ্জিন সাহেবকে নিয়ে আসলেন চা খেতে। মুয়াজ্জিন সাহেব ইমাম সাহেবকে বললেন একটা দলের পক্ষে পরের খুতবায় বলতে। সবাই যেন মুসলমানদের ভোট দেয়। রাকিব অবাক হয় শুনল ইমাম সাহেব বলছেন, কোন দলের পক্ষে খুতবা হতে পারে না। মানুষ যাকে ভালো লাগবে ভোট দিবে। যে ধর্মের হোক ভালো মানুষকে ভোট দেবে। তার দায়িত্ব শুধু বলা মানুষ যেন ভালো মানুষ দেখে ভোট দেয়, সেটাই তিনি বলবেন।

লেখক পরিচিতি

হুমায়ূন আহমেদ

1948 – 2012

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার অভূতপূর্ব সৃষ্টি হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →