বইয়ের পরিচয়

‘দরজার ওপাশে’ গল্পের কাহিনীর প্রবাহ জগত ও জীবনে জড়িয়ে থাকা নারীর আখ্যান- উপাখ্যান। নারীর নিজস্ব সংকট ও অনুভবের জগত চিত্রিত হয়েছে। অভাব এতটাই অসহায় করে তোলে মানুষকে। নারীর জীবন সংগ্রামের এক জীবন্ত ছবি ফুটে উঠেছে।এক কন্যার জননী নীলা স্বামীর সাথে ডিভোর্স হলে নিষ্ঠুর অতীতকে মুছে ফেলে শুরু করতে চেয়েছে একটা পরিপাটি জীবন, জয় করতে চেয়েছে নিজের ও কন্যা তুবার ভাগ্য। নীলার মা রাহেলা বানু প্রত্যাশায় চেয়ে থাকে তার মেয়ের সুখের সংসার দেখার, নিজে একদিনের জন্য হলেও নিশ্চিন্তে থাকার। এদের জীবনকাহিনী মূলত আমাদের সমাজের নারীদের জীবনকে প্রতিনিধিত্ব করে।এইসব মানুষের টানাপোড়নে তৈরি হয়েছে আরেক বিচিত্র জগত। পৃথিবীতে আজও কিছু মানুষ আছে যাদের ভালো না বেসে থাকাই যায় না। এমন একজন আসে নীলার জীবনে। সেই ফরিদকে পাওয়ার জন্য নীলা ব্যাকুল হয়ে পড়ে। নীলার মনে বয়ে আনে অনাবিল আনন্দের ফল্গুধারা। ‘দরজার ওপাশে’ বইটি পড়লে মনে হবে অন্ধকারেরও এক অপূর্ব আলো আছে। কখনো কখনো বিচ্ছেদ সুন্দর, ছেড়ে আসা শান্তির, উদযাপনের।আমাদের চারপাশের একটা পরিচিত সময়ের গল্প ‘দরজার ওপাশে’।

লেখক পরিচিতি

হুমায়ূন আহমেদ

1948 – 2012

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার অভূতপূর্ব সৃষ্টি হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →