বইয়ের পরিচয়

সকাল সাতটার সময় রূপাইকুড়ার থানার সামনে হেরম্বের গাড়ি দাঁড়াল। বিস্সা পর্যন্ত মোটরে আসতে তার বিশেষ কষ্ট হয়নি। কিন্তু রাত বারোটা থেকে এখন পর্যন্ত গোরুর গাড়ির ঝাঁকানিতে সর্বাঙ্গে ব্যথা ধরে গেছে। গাড়ি থেকে নেমে শরীরটাকে টান করে দাঁড়িয়ে হেরম্ব আরাম বোধ করল। এক টিপ নস্য নিয়ে সে চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগল।পুব আর পশ্চিমে কেবল প্রান্তর আর দিগন্ত। মাঝে মাঝে দু-একটি গ্রামের সবুজ চামড়া বসানো আছে, বৈচিত্র্য শুধু এই। উত্তরে কেবল পাহাড়। একটি দুটি নয়, ধোঁয়ার নৈবেদ্যের মতো অজস্র পাহাড় গায়ে গায়ে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে-অতিক্রম করে যাওয়ার সাধ্য চোখের নেই, আকাশের সঙ্গে এমনি নিবিড় মিতালি। দক্ষিণে প্রায় আধ মাইল তফাতে একটি গ্রামের ঘনসন্নিবিষ্ট গাছপালা ও কতকগুলি মাটির ঘর চোখে পড়ে। অনুমান হয় যে, ওটিই রূপাইকুড়া গ্রাম। গ্রামটির ঠিক উপরে আকাশে এখন রুপার ছড়াছড়ি। তবে সেগুলি আসল রূপা নয়, মেঘ।গাড়ি দাঁড়াতে দেখে থানার জমাদার মতিলাল বেরিয়ে এসেছিল। হেরম্বকে সে-ই সসম্মানে অভ্যর্থনা করল।

লেখক পরিচিতি

রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়

1907 – 2004

হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (২৩ নভেম্বর ১৯০৭ - ৩০ জুলাই ২০০৪), (যিনি হীরেন মুখোপাধ্যায় বা হীরেন মুখার্জি নামেও পরিচিত) ছিলেন একজন ভারতীয় (বামপন্থী) রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে সেই সময়ের নিষিদ্ধ ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। তিনি ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টানা পঁচিশ বৎসর কলকাতার উত্তর-পূর্ব লোকসভা কেন্দ্র হতে নির্বাচিত ভারতের লোকসভার সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি জরুরী অবস্থাকে সমর্থন করায় তিনি প্রতাপচন্দ্র চন্দ্রের কাছে পরাজিত হন। তিনি ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন। এর আগে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে পদ্মভূষণে ভূষিত হয়েছিলেন। অসাধারণ পাণ্ডিত্য এবং বিশ্বকোষীয় স্মৃতির ও সুস্নাত ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি বাংলা ও ইংরাজী উভয় ভাষারই প্রগাঢ় বৌদ্ধিক সত্তার সুবক্তা ছিলেন। সুস্পষ্ট কণ্ঠে অনবদ্য অক্সোনিয়ান ইংরাজী উচ্চারণে আর বাংলায় কলকাতায় প্রচলিত রীতি ও স্বরপ্রক্ষেপন শৈলিতে তার ভাষণ অভিনন্দিত হত। তিনি ভারতের সর্বকালের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংসদীয় বক্তা ছিলেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →