বইয়ের পরিচয়

ভৌগোলিক অনন্যতায় ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময়তায় যে-ভূখণ্ড ফেলুদার অন্যতম প্রিয়, যে-শৈলশহরে তাঁর গোয়েন্দাগিরির হাতেখড়ি, সেই দার্জিলিঙের পটভূমিকাতেই এক অসামান্য জমজমাট কাহিনী উপহার দিয়েছেন ফেলুদার স্রষ্টা।‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ থেকে সেবার হিন্দি ছবি করছিলেন যে-তরুণ চিত্রপরিচালক, তাঁরই নতুন ছবির শুটিং দার্জিলিঙে। এ-কাহিনীও জটায়ুর। জটায়ুর সঙ্গে ফেলুদা-তোপ্‌সেকেও সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পরিচালক। সেই সূত্রেই ফেলুদার দার্জিলিঙে পদার্পণ। আর কী অদ্ভুত ভাগ্যের ফের, সেবারের মতো এবারও ফেলুদাকে নামতে হল গোয়েন্দার ভূমিকায়।যাঁর বাড়িতে শুটিং, খুন হলেন সেই বৃদ্ধ গৃহকর্তা। অতীব কৌতূহলকর চরিত্রের বৃদ্ধ। দিনে ঘুমোন, রাত্রে জেগে থাকেন। খবরের কাগজ থেকে যাবতীয় গরম খবরের কাটিং জমান খাতায়। কে খুন করল তাঁকে? কেনই-বা এই খুন?বৃদ্ধের অতীত জীবনের অধ্যায় ঘেঁটে কীভাবে ফেলুদা উদ্ধার করলেন নানান চমকপ্রদ সূত্র আর কীভাবে তার সাহায্যে ছাড়ালেন সমুদয় রহস্যের জট, তাই নিয়েই এই দুর্ধর্য উপন্যাস। বইটির প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন সত্যজিৎ রায়।

লেখক পরিচিতি

সত্যজিৎ রায়

1921 – 1992

সত্যজিৎ রায় (বাংলা: [ˈʃotːodʒit ˈrae̯] ; (২ মে ১৯২১ – ২৩ এপ্রিল ১৯৯২) ছিলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, শিল্প নির্দেশক, সংগীত পরিচালক এবং লেখক। তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। সত্যজিতের জন্ম কলকাতা শহরে সাহিত্য ও শিল্প সমাজে খ্যাতনামা রায় পরিবারে। তার পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জে মহকুমার (বর্তমানে বাংলাদেশ) কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সত্যজিতের কর্মজীবন একজন বাণিজ্যিক চিত্রকর হিসেবে শুরু হলেও প্রথমে কলকাতায় ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা জঁ রনোয়ারের সাথে সাক্ষাৎ ও পরে লন্ডন শহরে সফররত অবস্থায় ইতালীয় নব্য বাস্তবতাবাদী চলচ্চিত্র লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে (ইতালীয়: Ladri di biciclette, বাইসাইকেল চোর) দেখার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সত্যজিৎ ছিলেন বহুমুখী এবং তার কাজের পরিমাণ বিপুল। তিনি ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী (১৯৫৫) ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে, এর মধ্যে অন্যতম ১৯৫৬ কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া “শ্রেষ্ঠ মানুষে-আবর্তিত প্রামাণ্যচিত্র” (Best Human Documentary) পুরস্কার। পথের পাঁচালী, অপরাজিত (১৯৫৬) ও অপুর সংসার (১৯৫৯) – এই তিনটি একত্রে অপু ত্রয়ী নামে পরিচিত, এবং এই চলচ্চিত্র-ত্রয়ী সত্যজিতের জীবনের শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বহুল স্বীকৃত। চলচ্চিত্র মাধ্যমে সত্যজিৎ চিত্রনাট্য রচনা, চরিত্রায়ন, সঙ্গীত স্বরলিপি রচনা, চিত্রগ্রহণ, শিল্প নির্দেশনা, সম্পাদনা, শিল্পী-কুশলীদের নামের তালিকা ও প্রচারণাপত্র নকশা করাসহ নানা কাজ করেছেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →