বইয়ের পরিচয়

বৌদ্ধদের মতে 'ধম্মপদ' গ্রন্থের সমস্ত কথা স্বয়ং বুদ্ধদেবের উক্তি এবং এগুলো তাঁর মৃত্যুর অল্পকাল পরেই গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। ধম্মপদ পালি ভাষায় রচিত এবং বৌদ্ধ শ্রমণ ও ভিক্ষুগণ পালিতেই তা পাঠ ও চর্চা করেন।পালি ভাষায় বৌদ্ধশাস্ত্রগুলো তিন ভাগে বিভক্ত: (ক) সুত্ত (সূত্র) পিটক, (খ) বিনয় পিটক এবং (গ) অভিধম্ম (অভিধর্ম) পিটক। এই তিনের সমন্বয়ে বৌদ্ধ শাস্ত্র একত্রে ত্রিপিটক নামে পরিচিত। ধম্মপদ গ্রন্থটি সুত্তপিটকের অন্তর্গত। এই গ্রন্থটিই সর্বাধিক প্রাচীন বৌদ্ধ শাস্ত্ররূপে পরিগণিত। মূল ধম্মপদ সম্রাট অশোকের পূর্বে এমনকি খ্রীষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিদ্যমান ছিল বলে অনুমান করা হয়। ঐ সময়ে বৌদ্ধগ্রন্থে সংস্কৃত ভাষা ব্যবহৃত হতো না। সম্রাট কনিষ্কই বৌদ্ধ গ্রন্থে সংস্কৃত ভাষার ব্যাপক প্রয়োগে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। বৌদ্ধগণ বলেন, বুদ্ধদেবের নির্বাণের অব্যবহিত পরে, রাজগৃহ নগরে প্রথম বোধিসঙ্গমকালে ধম্মপদ রচিত হয়েছিল।