বইয়ের পরিচয়

‘নূরজাহান’ বইয়ের ফ্লাপের লেখাবাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন -এর সুদীর্ঘ উপন্যাস ‘নূরজাহান’ যে-গ্রামবাংলার বাস্তব চিত্র ধারণ করে আছে, সেই গ্রাম নির্মীয়মাণ এক পাকা সড়কের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে প্রতিদিন। শহরের হাওয়া লেগে গেছে যেন গ্রামে। মানুষের মধ্যে উত্তেজনা। তবু এখনও ঢােলকলমির গাঢ় সবুজ পাতায় বসছে লাল ফড়িং, কাইত্তানি । অর্থাৎ কার্তিকের বৃষ্টিতে ডাগর হচ্ছে বাকসা ঘাস, চালতা পাতার ফাক দিয়ে ঝরে পড়ছে অদ্ভুত উষ্ণ রােদ। এসবের মধ্যেই বড় হচ্ছে পল্লিবালিকা নূরজাহান। শিশুর মতাে সরল হাসি লেগে থাকে তার মুখে। শীতের খেজুর গাছের অপেক্ষায় বসে থাকে দবির গাছি। আর ভাবে, বড় চঞ্চল তার মেয়েটি বিয়ের পর কোন সংসারে গিয়ে খাঁচার পাখিটি হয়ে যাবে। নুরজাহানের বড়-হয়ে-ওঠা, বিয়ে, দুর্ভাগ্য, ভণ্ড ফতােয়াবাজের হাতে অপমানিত হওয়া এবং শেষমেশ আত্মহত্যার করুণ কাহিনির পাশে লেখক এক গ্রামীণ জনপদের মানুষের নিখুঁত জীবনচিত্র এঁকেছেন। যে জীবন দোয়েলের শালিখের, সে-জীবনের অনাবিল প্রবাহকে পঙ্কিল করে তােলে কারা? অসামান্য ‘নূরজাহান’ উপন্যাসে নির্যাতিতা মেয়েটির আত্মহত্যা প্রতিটি হৃদয়ে যে-আগুন জ্বালে, সমাজের শুদ্ধিকরণে সে-আগুন চিরজাগরূক।

লেখক পরিচিতি

ইমদাদুল হক মিলন

1955 – বর্তমান

ইমদাদুল হক মিলন (জন্ম: ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫) হলেন একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি গল্প, উপন্যাস এবং নাটক এই তিন শাখাতেই জনপ্রিয় রচনা উপহার দিয়েছেন। কিশোর বাংলা নামীয় পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে তিনি সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় '‍সজনী‌'‍ নামে একটি ছোট গল্প লিখে পাঠকের দৃষ্টি আর্কষণ করতে শুরু করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৯ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →