বইয়ের পরিচয়

'পুতুল নাচের ইতিকথা' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পকীর্তি। এটি তাঁর তৃতীয় উপন্যাস। উপন্যাসটি মানুষের মনোরহস্য ও প্রকৃতির অন্তবহিঃরহস্যের উন্মোচনের আখ্যান। এ উপন্যাসে গ্রামজীবনকে রূপায়িত করেছেন। মানিক বাস্তবতার সমগ্রতাকে ধারণ করতে চেয়েছেন এ উপন্যাসে। এখানে ঔপন্যাসিক যে গ্রাম জীবনকে রূপায়িত করেছেন তা বাংলা উপন্যাসে আর কখনো দেখা যায়নি এবং বৈজ্ঞানিক বিচারবোধ দ্বারাই পরিবেশ, ঘটনা ও চরিত্র নির্মাণ করেছেন। এক সাধারণ গ্রাম গাওদিয়া তার সাধারণ মানুষদের নিয়ে এ উপন্যাসের গল্প। বজ্রাঘাতে হারুঘোষের মৃতদেহ আবিষ্কার দৃশ্য দিয়ে উপন্যাসের শুরু আর মাটির টিলার ওপর উঠে শশী ডাক্তারের সূর্যান্ত দর্শনের শখের অতৃপ্ততা দিয়ে উপন্যাসের সমাপ্তি। মানিক ব্যক্তিগত আদর্শ ভাবনার স্থির পথ নির্দিষ্ট করে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির আদর্শবাদের পথে নিয়ে গেছে সেটি উপন্যাসে লক্ষ্য করা যায়।

লেখক পরিচিতি

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

1908 – 1956

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯ মে ১৯০৮ – ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটময় মুহূর্তে বাংলা কথা-সাহিত্যে যে কয়েকজন লেখকের হাতে সাহিত্য জগতে নতুন এক বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তার রচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ ইত্যাদি। ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও মার্কসীয় শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন যা তার রচনায় ফুটে উঠেছে। জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে তিনি রচনা করেন চল্লিশটি উপন্যাস ও তিনশত ছোটোগল্প। তার রচিত পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস ও অতসী মামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোট বকুলপুরের যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে বিবেচিত হয়। ইংরেজি ছাড়াও তার রচনাসমূহ বহু বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর, মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই কথা সাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →