প্রথম প্রতিশ্রুতি (১৯৬৫)
পৃষ্ঠা: 511
ISBN: 8172932065
বইয়ের পরিচয়
'প্রথম প্রতিশ্রুতি’র' বইয়ের ফ্লাপের লেখাবাংলাসাহিত্যে আশাপূর্ণা দেবীর অভ্যুদয় একটি বিশিষ্ট ঘটনা। তার তীক্ষ দৃষ্টি ও ক্ষুরধার লেখনী বাঙ্গালীর সংসারজীবনের উপরকার বর্ণাঢ্য মােহজাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে তার যে সত্যকার রূপ দেখিয়েছেন, তা ইতিপূর্বে কোন লেখক বা লেখিকা দেখতে কি দেখাতে সাহস করেন নি। কোনাে প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাসকেই লেখিকা যাচাই না করে গ্রহণ করতে রাজী হন নি, আর তার ফলে বিশ্বাসমুগ্ধ বহু পাঠককেই সুকঠিন আঘাত পেতে হয়েছে তাঁর লেখা পড়ে। তার সত্যদৃষ্টির নিকষে টেকে নি প্রায়। কোনটাই—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপাত-মূল্যবান। অলঙ্কারের ভিতরকার কেমিক্যাল সােনা ও ঝুটো পাথরের যথার্থ চেহারাটা বেরিয়ে পড়েছে। ....কিন্তু শুধুই কি জীবনের অসত্য ও অমলিন। দিকটাই দেখেছেন লেখিকা ? না, তা দেখেন নি। তাহলে আজ এই গ্রন্থের নায়িকা সত্যবতীর সৃষ্টি বা কল্পনা সম্ভব হত না। বাংলার সমাজ ও সংসারের অন্তঃপুরে গত শতবর্ষে যে অভাবনীয় ও অকল্পনীয় পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে বহু অসমসাহসিক বীরাঙ্গনার বুকের রক্তেই তা ঘটতে পেরেছে; তারা নিজেরা জ্বলে আলােকিত করে। দিয়ে গেছে জীবনের প্রশস্ত রাজপথ, আত্মবলির মূল্যে খুলে দিয়ে গেছে মহৎ সম্ভাবনার সিংহদ্বার। লেখিকার আর্বিভাব যেমন বিস্ময়কর তেমনি বাংলা কথাসাহিত্য ক্ষেত্রে প্রথম প্রতিশ্রুতি’র। আবির্ভাবও একটি স্মরণীয় ঘটনা। বাঙ্গালী পাঠকপাঠিকা তথা সমগ্র বাংলাভাষাভাষী জনতা চিরদিন এই উপন্যাসখানির জন্য লেখিকার কাছে কৃতজ্ঞ ও ঋণী বােধ করবেন সন্দেহ নেই। বহু গুণী ও জ্ঞানী পাঠকের মতে— তিনি যদি মাত্র এই একটি গ্রন্থই রচনা করতেন, তাহলেও বঙ্গবাণীর সভায় তার আসন স্থায়ী ও বরণীয় হয়ে থাকত।