বইয়ের পরিচয়

বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০) কাব্যে প্রকৃতি ও নারীকে কবি একাকার করে দেখেছেন। দশটি সর্গে রচিত কাব্যের প্রতিটি সর্গেই তিনি প্রকৃতি ও নারীকে আবহমান বাঙালি ও নারীর প্রতিমূর্তিরূপে রূপায়ণ করে তুলেন অনন্য কাব্যসৌন্দর্যে।বিহারীলালের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিশুদ্ধ গীতিকবিতার আবির্ভাব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে যথার্থই ভোরের পাখি বলে অভিহিত করেন। বাঙালি কবিমানসের বহির্মুখী দৃষ্টিকে অন্তর্মুখী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সারদামঙ্গল (১৮৭৯) তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য। স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮), সঙ্গীত শতক (১৮৬২), নিসর্গদর্শন (১৮৭০), বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০), প্রেম প্রবাহিনী (১৮৭০), মায়াদেবী (১৮৮২), ধূমকেতু (১৮৮২), নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮২), বাউল বিংশতি (১৮৮৭), গোধূলি (১৮৯৯) কাব্যও তাঁর অনন্য সৃষ্টি।

লেখক পরিচিতি

বিহারীলাল চক্রবর্তী

1835 – 1894

বিহারীলাল চক্রবর্তী (২১ মে, ১৮৩৫–২৪ মে, ১৮৯৪) হলেন বাংলা ভাষার একজন কবি। বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে বাংলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। মনোবীণার নিভৃত ঝংকারে তার কাব্যের সৃষ্টি। বাঙালি কবি মানসের বহির্মুখী দৃষ্টিকে অন্তর্মুখী করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। অতি অল্পকালের মধ্যে তিনি বাংলা কবিতার প্রচলিত ধারার পরিবর্তন ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার ধারা চালু করেন। এই বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্যের মাধ্যমে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তিনি তার কবিতায় ভাবের আধিক্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রকৃতি ও প্রেম, সংগীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা বিহারীলালের কবিতাকে দিয়েছে আলাদাধারার বৈশিষ্ট্য।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →