বইয়ের পরিচয়

"বাংলা চার অক্ষর" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:হাওয়ায় উড়ছে ব্যর্থ প্রেম, ভুল বােঝাবুঝি, অলৌকিক ব্যাকুলতা এবং মুখােমুখি দেখা হওয়ার অতৃপ্তি...। এই অতৃপ্তিই হয়তাে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে কবিতা রচনার মুখােমুখি করে দেয়। আর আমরা মগ্ন হই তার নতুন সৃষ্টির সঙ্গে। কথা বলায় আমরা ঋদ্ধ হই। বাংলার চার অক্ষর এলােমেলাে সাজিয়ে যে-শব্দ মূর্ত হয় তা যে-কোনও কবিতারই প্রাণ। এমনকী তা যদি হয় কোনও ঘৃণার উচ্চারণ—আমরা বুঝে যাই, ঘৃণার ফাটল দিয়ে দেখা যাবে সেই চার অক্ষরের একটি শব্দের টলটলে অবস্থিতি। এই শব্দটি আছে বলেই বেঁচে থাকা এত মনােরম। এই শব্দটি আছে বলেই কবি লেখেন— সেই প্রথমবারই যদি তুমি অগ্নিপরীক্ষা অস্বীকার করতে, সীতা? তা হলে হয়তাে লােক, লােক, লােক, অন্ধ লােকশক্তি আর ফিরতেই দিত না রামকে...'। কবি লেখেন আর তার কলমের মধ্যবিন্দুতে বিপ্লব ঘটে যায়। এই বিপ্লব সুন্দরের। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতায় যার আদ্যোপান্ত উপস্থিতি। এই বইয়ের কবিতাগুলির ব্যর্থ প্রণয়ে, বহু নিরুচ্চার জিজ্ঞাসায়, দুঃখিত দীর্ঘনিঃশ্বাসে এই সুন্দর বহু রূপে রচিত। এখানেই আছে জীবনের সেই দুর্নিবার উচ্চারণ ...অথবা এসবই কি আমার নিজস্ব নৈরাশ্য ?/অন্য কোথাও আছে অন্য মানুষ যারা এই সব কিছু বদলে দেবে ?...'। এই গ্রন্থের কবিতাগুলিতে এই বিশ্বাস ও ভালবাসারই ভাঙন আর নির্মাণের বিস্তার।

লেখক পরিচিতি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

1934 – 2012

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ – ২৩ অক্টোবর ২০১২) বিশ শতকের শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসাবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষার জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বাংলা ভাষায় এই ভারতীয় সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তার কবিতার বহু পঙ্‌ক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত", "সনাতন পাঠক", "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায়। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। ১৯৫৩ সাল থেকে তিনি কৃত্তিবাস নামে একটি কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ একা এবং কয়েকজন এবং ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম উপন্যাস আত্মপ্রকাশ প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হল আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে), হঠাৎ নীরার জন্য, রাত্রির রঁদেভূ, শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা, অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ ইত্যাদি। শিশুসাহিত্যে তিনি "কাকাবাবু-সন্তু" নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য অকাদেমি ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর আকাদেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →