বইয়ের পরিচয়

"ভোলু যখন রাজা হল" বইটিতে লেখা গল্পের কিছু অংশ:সকালবেলাতেই কেউ এসে রঙ্গরসিকতা করলে কারই বা ভাল লাগে? ভোলুরও লাগল না। ভোলু বা ভোলার অবস্থা মোটেই সুবিধের নয়। বিধবা পিসি নবদ্বীপবাসিনী দেহরক্ষার আগে একদিন তাকে ডেকে বলল, “ওরে ভোলু, তোর তিন কূলে কেউ কিন্তু নেই। এই আমি তোর পিসি তোকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছি বটে, কিন্তু আজ সত্যি কথাটা বলে যাই বাছা, আমিও তোর কেউ নই। তোর বাবা আমার কাছে তোকে গচ্ছিত রেখে কোথায় হাওয়া হয়ে গেল কে জানে! পরে শুনেছি সে ডাকাতি করতে গিয়ে কোন গেরস্তবাড়িতে বেকায়দায় ধরা পড়ে, তারপর বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। তা বাছা, রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বুকে করে মানুষ তো করেছি। কিন্তু আমার আর সম্বল কী বল? তোকে মানুষ করতে গিয়ে মহাদেব তেজপালের কাছে বাড়িটা বাঁধা রাখতে হয়েছে এই কড়ারে যে, আমি মলেই সে এ বাড়ির দখল নেবে। সুতরাং এ বাড়িটাও আর ভোগে লাগবে না। সব খুলে বলে দিলুম বাছা, যতদিন আমি বেঁচে আছি, তুইও থাক। আমি মলে নিজের আখের তোকে নিজেকেই গোছাতে হবে।”এসব শুনে তো ভোলু হাঁ হয়ে গেল। পিসি গত হয়েছে ছয় মাস হল। যথারীতি মহাদেব এসে চড়াও হল। একা নয়, সঙ্গে চার-পাঁচটা খুব ঠান্ডা মাথার গুন্ডা। হাতে-পায়ে ধরে ক'টা দিন সময় চেয়ে নিয়েছিল ভোলু।

লেখক পরিচিতি

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

1935 – বর্তমান

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (জন্ম: ২ নভেম্বর ১৯৩৫) একজন বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক, যিনি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গল্প ও উপ্যনাস লিখে থাকেন। ১৯৮৮ সালে তার মানবজমিন উপ্যনাসের জন্য সাহিত্য একডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। ছোটদের জন্য লেখা উপ্যনাসের মধ্যে মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি, গোসাঁই-বাগানের ভূত জনপ্রিয়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →