বইয়ের পরিচয়

রাতের দুঃস্বপ্নগুলো প্রতিনিয়ত সাকিবকে তাড়া করে ফেরে। কখনো কখনো সাকিব আর নিজের মধ্যে থাকতে পারে না । মনে হয় সে অন্য কেউ হয়ে যায়। ভালোবাসায় নিঃস্ব সাকিবের অন্ধকার জীবন। সে অন্ধকুঠুরীর মাঝে হঠাৎ এসে পড়ে মোমের নরম আলো। পার্থিব জগতের অপার্থিব মায়া। সে মায়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা কি সম্ভব? নগরীতে ঘটে গেছে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। খুনের সাথে জড়িত কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যাকারী ঠান্ডা মস্তিষ্কে, সুকৌশলে ও ভীষণ নৈপুণ্যের সাথে নিজ কাজে এগিয়ে যাচ্ছে। ডিটেকটিভ রায়হান আলীর চোখে প্রাইম সাসপেক্ট একজন। কিন্তু জাল যতবার গুটিয়ে আনবার চেষ্টা চালাচ্ছেন, ততবারই ডুবে গেছেন অতল জলের গহবরে। এমনই টান টান উত্তেজনা ও রহস্যে ঘেরা ঘটনায় এগিয়েছে ‘মায়াজাল’-এর কাহিনি।

লেখক পরিচিতি

আশাপূর্ণা দেবী

1909 – 1995

আশাপূর্ণা দেবী (৮ জানুয়ারি ১৯০৯ – ১২ জুলাই ১৯৯৫) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার এবং শিশুসাহিত্যিক। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জীবন, বিশেষত সাধারণ মেয়েদের জীবনযাপন ও মনস্তত্ত্বের চিত্রই ছিল তার রচনার মূল উপজীব্য। ব্যক্তিজীবনে নিতান্তই এক আটপৌরে মা ও গৃহবধূ আশাপূর্ণা ছিলেন পাশ্চাত্য সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞা। বাংলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও ভাষায় তার জ্ঞান ছিল না। বঞ্চিত হয়েছিলেন প্রথাগত শিক্ষালাভেও। কিন্তু গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষণশক্তি তাকে দান করে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখিকার আসন। তার প্রথম প্রতিশ্রুতি-সুবর্ণলতা-বকুলকথা উপন্যাসত্রয়ী বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলির অন্যতম বলে বিবেচিত হয়। তার একাধিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। দেড় হাজার ছোটোগল্প ও আড়াইশো-র বেশি উপন্যাসের রচয়িতা আশাপূর্ণা সম্মানিত হয়েছিলেন জ্ঞানপীঠ পুরস্কার সহ দেশের একাধিক সাহিত্য পুরস্কার, অসামরিক নাগরিক সম্মান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রিতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে প্রদান করেন পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান রবীন্দ্র পুরস্কার। ভারত সরকার তাকে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান সাহিত্য আকাদেমি ফেলোশিপ ভূষিত করেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →