বইয়ের পরিচয়

"রজনী" বইটির ভুমিকা থেকে নেয়াঃপ্রকৃতপক্ষে রজনী উপন্যাসে প্রেম কী, রূপ কী, সৌন্দর্য কী, দুঃখ কী, শারীরিক প্রেম কী, ঈশ্বর কী ইত্যাদি নানা বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। আবার এ-সব প্রসঙ্গের কীভাবে মীমাংসা করা যেতে পারে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র। গঠনশৈলী, চরিত্রায়ন ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস-সমগ্রের মধ্যে রজনীর স্থান তাই বিশিষ্ট। বঙ্কিমমানস উপলব্ধির জন্যেও উপন্যাসটি সহায়ক হতে পারে নিঃসন্দেহে। এ ছাড়া উত্তরকালের ঔপন্যাসিকগণও এই উপন্যাসের কাছে ঋণী।জাগতিক জীবনের সঙ্গে প্রণয়ের যে দ্বন্দ্ব শরৎসাহিত্যের প্রধান প্রসঙ্গ, তাঁরও সূত্রপাত রজনী উপন্যাসে। অন্তর্গত প্রেম জেগে উঠলে তা যে কত বিচিত্রপথগামী হতে পারে, শরৎসাহিত্যে তার সমৃদ্ধ পরিচয় মেলে। রজনী উপন্যাসের লবঙ্গলতাই হচ্ছে সেই চরিত্র, যা শরৎচন্দ্রকে হয়তাে এরকমটাই ভাবতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু লবঙ্গলতা যেখানে থামিয়া গিয়াছে রাজলক্ষ্মী, সাবিত্রী, অচলা সেইখানে থামে নাই। শরৎচন্দ্র আত্মজাগ্রত এই নারীকে তাঁর উপন্যাসে স্থান দিলেও সমাজে তাদের ঠাই হয়নি। এখানেই শরৎচন্দ্রের ব্যর্থতা। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র এই সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। নীতিবিহর্গিত প্রেমের অপরাজেয় রূপকে তিনি সেকালের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। রজনী এ-দিক থেকেও বাংলা সাহিত্যের একটি সফল উপন্যাস।

লেখক পরিচিতি

হুমায়ূন আহমেদ

1948 – 2012

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার অভূতপূর্ব সৃষ্টি হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →