বইয়ের পরিচয়
অতি পূর্বকালে ভারতবর্ষে দুষ্মন্ত নামে সম্রাট ছিলেন। তিনি একদা বহুতর সৈন্যসামন্ত সমভিব্যাহারে মৃগয়ায় গিয়াছিলেন। একদিন মৃগের অনুসন্ধানে বনমধ্যে ভ্রমণ করিতে করিতে এক হরিণ-শিশুকে লক্ষ্য করিয়া রাজা শরাসনে শরসন্ধান করিলেন। হরিণশিশু তদীয় অভিসন্ধি বুঝিতে পারিয়া প্রাণভয়ে দ্রুত বেগে পলাইতে আরম্ভ করিল। রাজা রথারোহণে ছিলেন, সারথিকে আজ্ঞা দিলেন, মৃগের পঞ্চাৎ রথচালন কর। সারথি কশাঘাত করিবামাত্র অশ্বগণ বায়ুবেগে ধাবমান হইল।br কিয়ৎ ক্ষণে রথ মৃগের সন্নিহিত হইলে রাজা শরনিক্ষেপের উপক্রম করিতেছেন, এমন সময়ে দূর হইতে দুই তপস্বী উচ্চৈঃস্বরে কহিতে লাগিলেন, মহারাজ! এ আশ্রমমৃগ, বধ করিবেন না, বধ করিবেন না। সারথি শুনিয়া, অবলোকন করিয়া কহিল, মহারাজ! দুই তপস্বী এই মৃগের প্রাণবধ করিতে নিষেধ করিতেছেন। রাজা তপস্বীর উল্লেখ শ্রবণমাত্র অতিশয় ব্যস্ত হইয়া সারথিকে কহিলেন, ত্বরায় রশ্মি সংযত করিয়া রথের বেগসংবরণ কর। সারথি, যে আজ্ঞা মহারাজ বলিয়া, রশ্মি সংযত করিল।