বইয়ের পরিচয়

"শরৎ গল্পসমগ্র" বইটির সম্পর্কে কিছু কথা:বাংলা কথা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮)। গত আশি-নব্বই বছর ধরে তিনি শুধু বাঙালি পাঠক সমাজেই নয়--বাংলার বাইরেও যে জনপ্রিয়তা ভােগ করে আসছেন তা অন্য কোনাে বাঙালি কথাসাহিত্যিকের ভাগ্যে জোটে নি। পরিণত বয়সের পাঠকের পাশাপাশি শিশু কিশাের পাঠকের মধ্যেও তাঁর অবাধ বিচরণ। তিনি যেমন করে আমাদের চারপাশের বিচিত্র সব চরিত্রের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সমস্যার কথা অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার বিভিন্ন গল্পউপন্যাসে, ঠিক তেমনি শিশু মনের অন্তরতম অন্তঃস্থলে প্রবেশ করে তাদের বিচিত্র প্রবৃত্তির বিচিত্র রূপ দিয়েছেন অত্যন্ত দরদী হাতের ছোঁয়ায়।শিশু মনের গােপন কথার অভিব্যক্তি বর্তমান যুগের সাহিত্যের একটি প্রধান লক্ষণ। বাংলা সাহিত্যেও এই বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) শিশু মনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে চেষ্টা করেছেন, তাঁর ডাকঘর’, ‘শিশু’, শিশু ভােলানাথ’ প্রভৃতি গ্রন্থে। শিশু হৃদয়ের নির্লিপ্ততা, সুদূরের জন্যে তার আকাঙ্ক্ষা, প্রকৃতির ও রূপকথার সঙ্গে তার সংযােগ—এসবই রবীন্দ্রনাথ বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়। যেখানে শিশু খুব সাধারণ জিনিস চেয়েছে সেখানেও দেখা যায় সামান্যের মধ্যদিয়ে শিশুচিত্ত বিস্তীর্ণের আকাক্সক্ষা করেছে। রবীন্দ্রনাথের পথ ধরেই শরৎচন্দ্র তার অসংখ্য গল্প-উপন্যাসে শিশু মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বেদনাকে মনের মাধুরী মিশিয়ে চিত্রিত করেছেন।

লেখক পরিচিতি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

1876 – 1938

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ ; বাংলা ৩১ ভাদ্র ১২৮৩ - ২ মাঘ ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক, ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়া এবং বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। লেখালিখির গুরু মানেন ফরাসি সাহিত্যিক এমিল জোলাকে। তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে। বড়দিদি (১৯১৩), পরিণীতা (১৯১৪), পল্লীসমাজ (১৯১৬), দেবদাস (১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), শ্রীকান্ত (চারখণ্ডে ১৯১৭-১৯৩৩), দত্তা (১৯১৮), গৃহদাহ (১৯২০), পথের দাবী (১৯২৬), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) ইত্যাদি শরৎচন্দ্র রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে খ্যাত। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক পান৷ এছাড়াও, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডিলিট' উপাধি পান ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে। শরৎচন্দ্রের অনেকগুলি উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে, এবং সেগুলো প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →