বইয়ের পরিচয়

কবি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক প্রণীত ‘মহাশুন্যে পরাণ মাস্টার ও মেঘ ও মেশিন বৈজ্ঞানিক কল্পকথা দুটি একত্রে সায়েন্স ফিকশন সমগ্র নামে। এই বইমেলায় প্রকাশিত হলাে। সাহিত্যের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন, বৈজ্ঞানিক কল্পকথাতেও সৈয়দ হক-এর অনন্যসাধারণ কলম বড় বেগবান গতিতে লিপিবদ্ধ করেছে দেশ, মাটি, মানুষ এবং মাতৃভূমির প্রতি আনুগত্যের অনুপম সব চিত্র। প্রেম? হঁ্যা। প্রেমও আছে, তবে সে প্রেম বড় গরিমায় গৌরবান্বিত হয়ে আছে। প্রবাদপ্রতিম লেখনীর অধিকারী সৈয়দ হক যদি সাহিত্যের আর কোনাে শাখায় কাজ না করে শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক কল্পকথাও লিখতেন, তবুও তিনি হয়ে থাকতেন এই বিভাগের পথিকৃৎ। রাষ্ট্রিক ও সামাজিক মনন এবং আধুনিকতা ও আবেগ উপন্যাস দুটির ছত্রে ছত্রে গ্রথিত হয়ে আছে। দারিদ্র্য পীড়িত দেশের লালকালিতে লিপিবদ্ধ ক্ষুধাপীড়িত ছবি বৈশ্বিক মানদণ্ডে তারুণ্যের সাথে চিত্রায়িত করার যে অসাধারণ ক্ষমতা তা ‘মহাশূন্যে পরাণ মাস্টারের ছত্রে ছত্রে আঁকা রয়েছে। মেঘ ও মেশিন’ উপন্যাসটিতে চিন্তার আধুনিকতা, সময় অগ্রসর কল্পনা, কাব্যিক দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা ও মননশীলতার সংমিশ্রণ। অপূর্ব এক সৃষ্টিশীলতার আখ্যান হিসাবে বিবেচিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বাংলা সাহিত্যের বৈজ্ঞানিক কল্পকথার ক্ষেত্রে এ উপন্যাস দুটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। বলে আশা রাখি।

লেখক পরিচিতি

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

1952 – বর্তমান

মুহম্মদ জাফর ইকবাল (জন্ম: ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২) হলেন একজন বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক, কলাম লেখক, পদার্থবিদ, শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনকর্মী। তিনি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ক্যলিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি ও বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চে ১৮ বছর কাজ করার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন ও ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে ৩ অক্টোবর তিনি অবসরে যান। তিনি বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লিখেছন। তার লেখা কিছু উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। তাকে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →