লেখক পরিচিতি
শহীদুল জহির
1955 – 2008
শহীদুল জহির (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন একজন বাংলাদেশী গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বাংলা সাহিত্যে জাদুবাস্তবতার অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখযোগ্য, এবং বিংশ শতাব্দীর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন প্রভাবশালী লেখক হিসেবে বিবেচিত। স্বকীয় ভাষা ও বর্ণনাশৈলী ব্যবহার করে তিনি সাহিত্যজগতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। বাংলা কথাসাহিত্যে তার লেখা "শহীদুল জহিরীয়" ধারা বা প্রবণতা হিসেবে পরিচিত একটি শৈলী সৃষ্টি করে। জহির পুরান ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও পুরান ঢাকায় তার শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করেন। তেইশ বছর বয়সে তিনি লেখালেখি শুরু করেন এবং ১৯৭৪ সালে "ভালবাসা" নামে একটি গল্প প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন। ১৯৮১ সাল থেকে প্রায় তিন দশক তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন। ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার সাহিত্যকর্মে দেশ, রাজনীতি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তার ৭টি উপন্যাস, ৩টি ছোটগল্প সংকলনসহ, অপ্রকাশিত-অগ্রন্থিত সংকলন এবং রচনাসমগ্র প্রকাশিত হয়। তার মোট ২৭টি ছোটগল্প পাওয়া যায়। বাংলা ছোটগল্পে তিনি নতুন ধারা সংযোজন করেন। তার গল্প সংকলনের মধ্যে রয়েছে পারাপার (১৯৮৫), ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প (২০০০), এবং ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪)। তার গল্প "ভালবাসা" (১৯৮৫), "পারাপার" (১৯৮৫), "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" (২০০০), "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" (১৯৯২), "ডুমুরখেকো মানুষ" (২০০০), "এই সময়" (২০০০), "কাঁটা" (২০০০), "চতুর্থ মাত্রা" (২০০০), "কোথায় পাব তারে" (২০০৪), এবং "ডলু নদীর হাওয়া" (২০০৪) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →