হাফিজের কবিতা (১৯৮৬) – (অনুবাদ কবিতা) বইয়ের প্রচ্ছদ

হাফিজের কবিতা (১৯৮৬) – (অনুবাদ কবিতা)

লেখক: সুভাষ মুখোপাধ্যায়

পৃষ্ঠা: 200

ISBN: 9789354258046

বইয়ের পরিচয়

‘‘যদি হাফিজের একটি গজল/ নিয়ে শুকতারা আশমানে মাতে/ যদি নাচে যীশুখ্রীস্ট সে-সুরে/ আশ্চর্যের কী রয়েছে তাতে?’’ এই বই থেকে তুলে-দেওয়া হাফিজের গজলেরই একটি অনুবাদে এই যে ছড়ানো আত্মস্তুতি, হাফিজ-প্রেমিকের কাছে তা কিন্তু একেবারেই অতিশয়োক্তি মনে হবে না। বস্তুত, হাফিজের গজল রসে-প্রকরণে একান্তভাবেই তাঁর নিজস্ব ও অননুকরণীয় এক সৃষ্টি। আপাতবিরোধী নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করে অনন্য এক সামঞ্জস্যে পৌঁছে যাওয়া, হাফিজ-পূর্ব গজলে ছিল না। গজলের ঐক্য ক্ষুণ্ণ না করেও হাফিজ তাতে এনেছেন প্রসঙ্গের ভিন্নতা। হাফিজের আগে সাদীর হাতে গজল পেয়েছিল তার প্রায় নিখুঁত, পরিণত রূপ। হাফিজ তাকে নিজের ছাঁচে নতুনভাবে ঢালাই করে যে-চেহারা দিয়েছেন তা প্রায় অসাধ্যসাধন বলা যায়। হাফিজের কবিতার প্রথম বই ছাপা হয় কলকাতায়। ১৭৯১ সালে। আমাদের সৌভাগ্য যে, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় স্বেচ্ছা-প্রণোদিত হয়ে আনুমানিক সাড়ে ছ’শো বছর আগের পারস্য শহরের এক কালজয়ী কবির সৃষ্টিকে বাংলা ভাষার পাঠকদের হাতে তুলে দিতে অগ্রণী হয়েছেন। যে-কোনও অনুবাদই দুরূহ। কবিতা থেকে কবিতায় রূপান্তর তো আরও কঠিন কাজ। কিন্তু একজন প্রধান কবি যখন অন্য এক বরেণ্য কবির রচনা সম্ভোগ করে অনুপ্রাণিত হন অন্যের কাছে সেই সৃষ্টিকর্মকে তুলে ধরতে, তখন তাও হয়ে ওঠে অসাধ্যসাধনেরই এক ব্রত। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের এই অনুবাদ-কবিতাবলী সেই ব্রতেরই সার্থক এক উদ্‌যাপন। আশ্চর্য মমতায় ও দুর্লভ ক্ষমতায় তিনি হাফিজের কবিতাকে করে তুলেছেন বাঙালি কাব্যপিপাসুর পরম উপভোগের সামগ্রী।

লেখক পরিচিতি

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

1919 – 2003

সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৯ – ৮ জুলাই ২০০৩) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য বাঙালি কবি ও গদ্যকার। কবিতা তার প্রধান সাহিত্যক্ষেত্র হলেও ছড়া, রিপোর্টাজ, ভ্রমণসাহিত্য, অর্থনীতিমূলক রচনা, বিদেশি গ্রন্থের অনুবাদ, কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা, উপন্যাস, জীবনী, শিশু ও কিশোর সাহিত্য সকল প্রকার রচনাতেই তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। সম্পাদনা করেছেন একাধিক গ্রন্থ এবং বহু দেশি-বিদেশি কবিতা বাংলায় অনুবাদও করেছেন। “প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য় এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা” বা “ফুল ফুটুক না ফুটুক/আজ বসন্ত” প্রভৃতি তার অমর পঙ্‌ক্তি বাংলায় আজ প্রবাদতুল্য। পরিণত বয়সে গায়ে খদ্দরের পাঞ্জাবি, পরনে সাদা পায়জামা, মাথাভর্তি ঘন কোঁকড়ানো চুল, বুদ্ধিদীপ্ত ঝকঝকে চোখ, চোখে চশমা, বামে চশমার নিচে বড় একটা আঁচিল - কলকাতার প্রতিবেশে এরকম একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →