বইয়ের পরিচয়

বইটির ভূমিকা থেকে নেয়াঃহ্যামলেট বা দি ট্রাজেডি অফ হ্যামলেট, প্রিন্স অফ ডেনমার্ক হলাে ডেনমার্ক সম্রাজ্যের পটভূমিতে রচিত একটি শেক্সপীরিও ট্রাজেডি। এটি হলাে শেক্সপিয়ার রচিত সর্ববৃহৎ ট্রাজেডি নাটক। এটি ইংরেজি সাহিত্যে একটি অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী ও চিরাচরিত কাহিনী যা অন্যান্য লেখকেরা পরবর্তীতে তাদের নিজেদের লেখনীতে ধারণ করেছেন। শেক্সপিয়ারের জীবনে হ্যামলেট ছিল সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় ট্রাজেডি নাটক। শেক্সপিয়ার এই নাটক টি তে অপর এক বিখ্যাত এলিযাবেথীয় নাট্যকার টমাস কিড এর বিখ্যাত নাটক “দ স্প্যানিশ ট্র্যাজেডিকে কমবেশি অনুসরন করেছেন। বলা বাহুল্য টমাস কিড সেই সময় এক নতুন ঘরানার নাটকের সূচনা করেছিলেন যাকে রিভেঞ্জ ট্র্যাজেডি বলা হয়। এই ধরনের নাটকের মূল বিষয়বস্তু হল প্রতিশােধ-যা আমরা হ্যামলেট এ দেখতে পাই।শেক্সপিয়ার খুব সম্ভবত তার এই ট্রাজেডিটি লিখেছিলেন এমলেথ নামক এক উপকাথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। এছাড়াও তিনি এই ট্রাজেডিটি সাজিয়েছিলেন তৎকালীন কিংবদন্তি অভিনেতা রিচার্ড বার্বেজকে মূল চরিত্র হিসেবে কল্পনা করে। এই ট্রাজেডি রচিত হওয়ার পর গত চারশত বছর ধরে হ্যামলেট চরিত্রটি বিভিন্ন কিংবদন্তি অভিনেতাগণ স্বরূপ দিয়ে আসছেন।শেক্সপিয়রের হ্যামলেট একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক নাটক। গ্লোব থিয়েটার সম্প্রতি ঢাকায় এ-নাটকের একটি প্রদর্শনী করে গেল। যাঁরা এই নাটকটির প্রদর্শনী দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন যে, নানামুখী হ্যামলেটীয় জটিলতা গেলাব থিয়েটারের কর্মীরা কত সহজে উপস্থাপন করার ক্ষমতা রাখেন।শেক্সপিয়রের ৪৫০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে গ্লোব থিয়েটার ২০৫টি দেশে হ্যামলেট নাটক নিয়ে পরিভ্রমণের অংশ হিসেবে গত ১৫ জুলাই….

লেখক পরিচিতি

উইলিয়াম শেকসপিয়র

1564 – 1616

উইলিয়াম শেকসপিয়র (; ইংরেজি: William Shakespeare ৱিলীঅ্যম্‌ শেইক্‌স্পীঅ্যর্‌; ব্যাপ্টিজম:২২ অথবা ২৩ এপ্রিল, ১৫৬৪; মৃত্যু: ২৩ এপ্রিল, ১৬১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ কবি ও নাট্যকার। তাকে ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার মনে করা হয়। তাকে ইংল্যান্ডের "জাতীয় কবি" এবং "বার্ড অব অ্যাভন" (অ্যাভনের চারণকবি) নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। তার যে রচনাগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৩৯টি নাটক, ১৫৪টি সনেট, তিনটি দীর্ঘ আখ্যানকবিতা এবং আরও কয়েকটি কবিতা। কয়েকটি লেখা শেকসপিয়র অন্যান্য লেখকদের সঙ্গে যৌথভাবেও লিখেছিলেন। তার নাটক প্রতিটি প্রধান জীবিত ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অপর যে কোনো নাট্যকারের রচনার তুলনায় অধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে। শেকসপিয়রের জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্ট্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিবাহ করেন। অ্যানির গর্ভে শেকসপিয়রের তিনটি সন্তান হয়েছিল। এঁরা হলেন সুসান এবং হ্যামনেট ও জুডিথ নামে দুই যমজ। ১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে লন্ডনে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লর্ড চেম্বারলেইন’স ম্যান নামে একটি নাট্যকোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-সত্ত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে কিং’স মেন নামে পরিচিত হয়। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগৎ থেকে সরে আসেন এবং স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছিল। শেকসপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। তার চেহারা, যৌনপ্রবৃত্তি, ধর্মবিশ্বাস, এমনকি তার নামে প্রচলিত নাটকগুলি তারই লেখা নাকি অন্যের রচনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →