বইয়ের পরিচয়

যাত্রার প্রথম থেকেই দুর্ভাগ্য সঙ্গী হলো তার। ইয়র্ক থেকে লন্ডনে যাওয়ার জন্য যে জাহাজে উঠল সেটি ইয়ারমাউথ নামক স্থানে ডুবে গেল। ভাগ্য ভালো, অন্য একটি জাহাজ যাচ্ছিল তাদের সামনে দিয়ে, তারা তাদের লাইফবোটে সবাইকে তুলে নিল। রবিনসনের কাছে যে অর্থ ছিল তা দিয়ে শেষ পর্যন্ত লন্ডন শহরে গিয়ে পৌছল।লন্ডনে যাওয়ার কদিন পরে জাহাজ-মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় হলো। ভদ্রলোক জাহাজের ব্যবসা করেন এবং এ কারণে প্রায়ই তাকে গিনি উপকূলে।

লেখক পরিচিতি

হেমেন্দ্রকুমার রায়

1888 – 1963

হেমেন্দ্রকুমার রায় (প্রকৃত নাম: প্রসাদদাস রায়; ১৮ এপ্রিল ১৮৮৮ – ১৮ এপ্রিল ১৯৬৩) একজন বাঙালি সাহিত্যিক এবং গীতিকার। তিনি কিশোরদের জন্য রহস্য রোমাঞ্চ ও গোয়েন্দা গল্প লেখার জন্য বিখ্যাত। তার কয়েকটি গল্প ও উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। হেমেন্দ্রকুমার রায়ের জন্মস্থান কলকাতা। তার পিতার নাম রাধিকাপ্রসাদ রায়। হেমেন্দ্রকুমার রায় মাত্র চৌদ্দ বছর বয়েসে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে বসুধা পত্রিকায় তার প্রথম গল্প আমার কাহিনী প্রকাশিত হয়। ১৩২২ বঙ্গাব্দে সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় এবং মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ভারতী পত্রিকা নতুনরূপে প্রকাশিত হলে হেমেন্দ্রকুমারের লেখকগোষ্ঠীতে যোগদান করেন। সাপ্তাহিক নাচঘর (১৩৩১ বঙ্গাব্দ) পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেছিলেন। এছাড়া মাসিকপত্র রংমশাল প্রভৃতি কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদনার সাথেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ছোটদের জন্য তিনি ৮০টিরও বেশি বই লিখেছিলেন। এর মধ্যে কবিতা, নাটক, হাসি ও ভূতের গল্প, অ্যাডভেঞ্চার, ও গোয়েন্দা কাহিনী, ঐতিহাসিক উপন্যাস সবকিছুই ছিল। তার সৃষ্ট দুঃসাহসী জুটি বিমল-কুমার, জয়ন্ত (গোয়েন্দা) ও সহকারী মানিক, পুলিশ ইন্সপেক্টর সুন্দরবাবু, ডিটেকটিভ হেমন্ত, বাংলা কিশোর সাহিত্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য চরিত্র। হেমেন্দ্রকুমার রায় বড়দের জন্যও বেশ কিছু বই লিখেছিলেন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: জলের আলপনা, বেনোজল, পদ্মকাঁটা, ঝড়ের যাত্রী, যাঁদের দেখেছি, বাংলা রঙ্গালয় ও শিশিরকুমার, ওমর খৈয়ামের রুবায়ত প্রভৃতি। তার সিঁদুর চুপড়ি গল্পটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়ে একটি সংকলন গ্রন্থে স্থান পেয়েছিল। বিমল ও কুমারের অভিযান কাহিনী অবলম্বনে তার বিখ্যাত উপন্যাস যকের ধন দুইবার চলচ্চিত্রায়িত হয়। তিনি সফল গীতিকারও ছিলেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →