বইয়ের পরিচয়

আজ সকালে কথা হয়েছে মেঘবতীর সাথে। রোদ্দুর আসতে চায় ওর বাসায়। তা-ও আবার পড়ন্ত বিকেলের সোনারঙে। এমনিতেই ওদের নিয়ে এটা-সেটা লোককথা, তার ওপর গৃহসাক্ষাৎ! পরামর্শ দিলাম, ওসব বাদ। চলে যাও কোনো এক নদীর পাড়েঅ সেতু নামের সংযোগের নিচে দাঁড়িয়ে আরেকবার কাঁধে রাখো হাত। বলো…..মেঘবতী নীলাম্বরী,এসো কষ্টকে ভাগ করতে শুরু করি।তোমার জন্য কথামালাবইটিতে মেঘবতী-রোদ্দুরের প্রথম দেখা। এরপরউপহার তোমার জন্যকাব্যে মন বিনিময়। কাছাকাছি আসবার প্রত্যাশা দু’জনে লিখলো,আমি আজ সাজাবো তোমায় বৃষ্টির ফুলে ফুলে।সবশেষেআজ জোছনায় তোমার নিমন্ত্রণবইটিতে ওরা কাছে পেলো একে আপরকে। তারপর…অনেক বোঝালাম মনটাকে। আর না ওদের কথার পেছনে গুপ্তচরগিরি। এবার শেষ। কিন্তু কী করি, মন যে মানে না! তাইতো গোপন অনুচরের মতো চলে গেলাম সেই পড়ন্ত বিকেলে, সেই নদী, সেই সেতু, সেই নোনাজলে….তুমি আসবে বলে।

লেখক পরিচিতি

শামসুর রাহমান

1929 – 2006

শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯ - ১৭ আগস্ট ২০০৬) বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। জীবদ্দশাতেই তিনি বাংলাদেশের প্রধান কবি হিসেবে মর্যাদালাভ করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ, তথা পঞ্চাশের দশকে তিনি আধুনিক কবি হিসেবে বাংলা কবিতায় আবির্ভূত হন এবং অল্প সময়ের ভেতরেই দুই বাংলায় (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম বাংলায়) কবি হিসেবে পরিচিতি পান। আধুনিক কবিতার অনন্য পৃষ্ঠপোষক বুদ্ধদেব বসুর 'কবিতা' পত্রিকায় 'রূপালি স্নান' কবিতাটি প্রকাশিত হলে কবি হিসেবে শামসুর রাহমান সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে উভয় বাংলাতেই তার শ্রেষ্ঠত্ব এবং জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি নাগরিক কবি, তবে নিসর্গ তার কবিতায় খুব কম ছিল না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তার দুটি কবিতা খুবই জনপ্রিয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে কলকাতার বিখ্যাত দেশ ও অন্যান্য পত্রিকায় কবিতা লিখতেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →