বইয়ের পরিচয়

"আনন্দমঠ" বইটির সম্পর্কে কিছু কথা:আনন্দমঠের কাহিনী চারটি খণ্ডে বিন্যস্ত। ঘন নিবিড় অরণ্য, মন্বন্তর, আর্থ-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং এসবের প্রেক্ষাপটে দেশচেতনায় উদ্দীপ্ত সন্তানদলের আবির্ভাব প্রথম খত্রে বিষয়বস্তু। দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে সন্তানদলের দীক্ষিত হবার বর্ণনা, তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, আত্মসংযম ও সংসারযাপনের চিত্র। ততীয় ও সর্বশেষ খণ্ডের বিষয় সন্তানদলের সঙ্গে ইংরেজের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বিশাল রাজসৈন্য এমনভাবে নিষ্পেষিত হল যে ওয়ারেন হেস্টিংয়ের কাছে সংবাদ লইয়া যায়, এমন লােক রহিল না। কিন্তু হিন্দুরাজ্য প্রতিষ্ঠা তখনও বঙ্কিমচন্দ্রের অভিপ্রায় ছিল না। মুসলমান শাসকের পরিবর্তে ইংরেজ রাজ্যে অভিষিক্ত হবে বলে তিনি আনন্দমঠে সন্তানবিদ্রোহ’ ঘটিয়েছেন।

লেখক পরিচিতি

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

1838 – 1894

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে তার অসীম অবদানের জন্যে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁকে প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে গীতার ব্যাখ্যাদাতা হিসেবে, সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। তিনি জীবিকাসূত্রে ব্রিটিশ রাজের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছদ্মনাম হিসেবে কমলাকান্ত নামটি বেছে নিয়েছিলেন। তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়। এছাড়াও তিনি বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত আনন্দমঠ (১৮৮২) উপন্যাসের কবিতা বন্দে মাতরম ১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কর্তৃক ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →