বইয়ের পরিচয়

একটিমাত্র উপন্যাস লিখে ইমদাদুল হক বাংলা সাহিত্যে রেখে গেছেন তাঁর স্বতন্ত্র প্রতিভার স্বাক্ষর। আবদুল্লাহ্ উপন্যাস বিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকের সময়সীমায় প্রবাহিত মুসলিম জীবনবিশ্বাস এবং জীবনযন্ত্রণার শিল্পিত ভাষ্য। একটি বিশেষ যুগসত্যকে ধারণ করে রচিত হলেও আবদুল্লাহ্ স্ব-কালের সীমা পেরিয়ে অভিষিক্ত হয়েছে কালোত্তীর্ণ শিল্পের মর্যাদায়।যে বিষয়পুঞ্জকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে আবদুল্লাহ্ তা এখনো আছে আমাদের সমাজে, হয়তো কমেছে তার মাত্রা এবং আসবে এমন একদিন যেদিন বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মুসলিমজীবন কেমন ছিল, তার অস্তিত্ব খুঁজব ইমদাদুল হকের আবদুল্লাহ্-র পাতায়―সেদিন আবদুল্লাহ্, বোধকরি, শিল্প থাকবে না, হবে ইতিহাস এবং সে-সূত্রেই আমরা বলছি, আবদুল্লাহ্ যতটা না শিল্প, তার চেয়ে বড় কথা এ-হচ্ছে সমাজচিত্র, খালি চোখে দেখা পুঙ্খানুপুঙ্খ সমাজবাস্তবতা।আবদুল্লাহ্ উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিমসমাজের পীরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, আশরাফ-আতরাফ বৈষম্য, হীন স্বার্থপরতা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ―ইত্যাদির বিরুদ্ধে বুর্জোয়া মানবতাবাদী প্রতিবাদ। মধ্যবিত্তের বিকাশের ফলে মুসলিমসমাজের ভিত কীভাবে নড়ে উঠেছে তার চিত্র আছে, আছে গ্রামীণ সমাজের বহুমাত্রিক জটিলতা ও বিরোধ; তবু স্রষ্টার ধর্মনিরপেক্ষ উদার মানবতাবাদী দর্শনই আবদুল্লাহ্ উপন্যাসের মৌল-অভিজ্ঞান।

লেখক পরিচিতি

কাজী ইমদাদুল হক

1882 – 1926

কাজী ইমদাদুল হক (৪ নভেম্বর ১৮৮২ – ২০ মার্চ ১৯২৬) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙালি লেখক ও শিক্ষাবিদ।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →