আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু (২০০৯) বইয়ের প্রচ্ছদ

আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু (২০০৯)

লেখক: শহীদুল জহির

পৃষ্ঠা: 64

ISBN: 9847015600877

বইয়ের পরিচয়

"আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের মৃত্যুর পর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলাে উপন্যাস আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু। এই আবু ইব্রাহীম ছিল একজন অসুখী লােক। অথচ উদ্ভাসিত হাসি বা পত্নী-প্রণয়ের বাইরে ছিল না সে। কিন্তু তার ছিলাে ব্যর্থ প্রণয়ের বিষন্নতা এবং যৌবনে লালিত রাজনৈতিক আদর্শ অর্জনের পথ থেকে সরে আসার গ্লানিবােধ। হেলেন নামের একটি মেয়ে ছিলাে তার সহপাঠী, কয়েকদিন হেলেন ক্লাসে না আসায় তাকে দেখার জন্য। আবু ইব্রাহীমের মন বড় উতলা হয়ে যেত তারপর হেলেন প্রত্যাবর্তনের পর তাকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলে আবু ইব্রাহীমের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়; তার অন্তর বেদনায় ভরে থাকে । হেলেন তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেনি এবং সে ব্যর্থ প্রেমের কাঙালপনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়। চত্বরে ছ’বছর ঘুরে বেড়িয়েছিল। আর তার বহুদিন পর বিবাহিত জীবনে স্ত্রী-পুত্র-কন্যার বেষ্টনের মধ্যে আবু। ইব্রাহীমের মনে হয় যে, হেলেনকে ছাড়া সে মরে যায়নি। আবার তার এও মনে হয়, হেলেনের সে প্রেমিক ছিল না, ছিল পূজারি এবং হেলেন দেবীদের মতােই পূজারিকে অবহেলা করতে শিখেছিল। একদিন নিজের কন্যা বিন্দুকে নিয়ে আবু ইব্রাহীম রমনা পার্ক হয়ে সােহরাওয়ার্দি উদ্যানের এক চাঁপাফুল গাছের তলায় বসে অনুভব করে মেয়েটির সঙ্গে গল্প করতে। তার ভালাে লাগে যেমন, অতীতে হেলেনের সঙ্গে কথা বলতে তার ভালাে লাগত। হেলেন তার প্রেমিকা ছিল, মুহুর্তের মধ্যে তার মনে হয় বিন্দুও তার প্রেমিকা। ভালােবাসা যে একটি ব্যাপার তা চাপাফুল গাছ তলায়। বসে নিজের কন্যার সঙ্গে কথা বলার সময় সে বুঝতে পারে। তখন বিন্দুর মাথায় কর স্থাপন করে এবং নিজে আশ্বস্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু অতীত প্রেমিকার আগমন, চলমান সংসার ও সম্মুখ স্বপ্নের মধ্যে আকস্মিক মৃত্যু আসে, আর তখনই সত্য হয়ে ওঠে এই উপন্যাসের অমর সত্যদর্শন-জীবন, আনন্দ এবং বেদনা সর্বদাই একটি খেলামাত্র।

লেখক পরিচিতি

শহীদুল জহির

1955 – 2008

শহীদুল জহির (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন একজন বাংলাদেশী গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বাংলা সাহিত্যে জাদুবাস্তবতার অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখযোগ্য, এবং বিংশ শতাব্দীর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন প্রভাবশালী লেখক হিসেবে বিবেচিত। স্বকীয় ভাষা ও বর্ণনাশৈলী ব্যবহার করে তিনি সাহিত্যজগতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। বাংলা কথাসাহিত্যে তার লেখা "শহীদুল জহিরীয়" ধারা বা প্রবণতা হিসেবে পরিচিত একটি শৈলী সৃষ্টি করে। জহির পুরান ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও পুরান ঢাকায় তার শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করেন। তেইশ বছর বয়সে তিনি লেখালেখি শুরু করেন এবং ১৯৭৪ সালে "ভালবাসা" নামে একটি গল্প প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন। ১৯৮১ সাল থেকে প্রায় তিন দশক তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন। ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার সাহিত্যকর্মে দেশ, রাজনীতি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তার ৭টি উপন্যাস, ৩টি ছোটগল্প সংকলনসহ, অপ্রকাশিত-অগ্রন্থিত সংকলন এবং রচনাসমগ্র প্রকাশিত হয়। তার মোট ২৭টি ছোটগল্প পাওয়া যায়। বাংলা ছোটগল্পে তিনি নতুন ধারা সংযোজন করেন। তার গল্প সংকলনের মধ্যে রয়েছে পারাপার (১৯৮৫), ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প (২০০০), এবং ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪)। তার গল্প "ভালবাসা" (১৯৮৫), "পারাপার" (১৯৮৫), "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" (২০০০), "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" (১৯৯২), "ডুমুরখেকো মানুষ" (২০০০), "এই সময়" (২০০০), "কাঁটা" (২০০০), "চতুর্থ মাত্রা" (২০০০), "কোথায় পাব তারে" (২০০৪), এবং "ডলু নদীর হাওয়া" (২০০৪) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →