বইয়ের পরিচয়

‘আশাবরী’ বইটির সামারী:আশাবরী গল্পটি মূলত একটি মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিকে কেন্দ্র করে লেখা যেখানে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের আশাহত হওয়ার গল্প। আশাবরী কহিনীটি লেখক হুমায়ুন আহম্মেদ রেনুর জবানবন্দীতে লিখেছেন। পরিবারের কর্তা জয়নাল সাহেব ছিলেন ফেরীওয়ালা ব্যবসায়ী তাই তাকে দেশের বিভিন্ন জায়গার ঘুড়তে হয় তাই মাঝে মাঝে তিনি নিরুদ্ধেশ হয়ে যান আবার ফিরে আসেন।রণ্জু হলো পরিবারের একমাত্র বড়ো ছেলে…টিউশনি করায় ৪টা। বাবার অবর্তমানে সংসারের হাল ধরেন তিনি। রণ্জু যে কোনো বিষয়েই ফ্যানি ম্যান বা মজা করতো তাই তার বাবা ফ্যানি ম্যান বলে ডাকতেন। দুই বোন মীরা আর রেনু, ভাই আবার আদর করে রেনুকে খুকী ডাকে। তারা একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন, বাড়ির মালিক সুলায়মান সাহেব রণ্জুকে অনেক পছন্দ করতেন। নিম্নবিত্ত ফ্যামিলি থাকায় বাড়ি ভাড়া দিতে অসুবিধা হতো তারপরেও কিছু বলতেন না। রণ্জুদের বাসার পাশেই বড় ফ্ল্যাটে থাকতেন ব্যারিস্টার মুশফেকুর রহমান। উনার সাথেও রণ্জুর অনেক মিল ছিল…..তার মেয়ে দুলু তাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো আবার রেনু যেতো ওদের বাসায়।দুলু অবশ্য মনে মনে রণ্জুকে পছন্দ করতো। আবার রণ্জুর পরিচিত আরেকটি মেয়ে ছিলো আভা নামে।সুলায়মান সাহেব বাড়িতে থাকলে ছেলে-মেয়েদের সাথে তার মায়ের কাহিনী নিয়ে আলোচনা করতেন যেমন-বিবাহের বিষয়। একদিন সুলায়মান সাহেব বরিশালে যান সুপারি কিনে ব্যবসা করবেন বলে…..আর ফিরে আসেননি….রণ্জুর মা অনেক চিন্তিত হয়ে পরেন, তারপর রণ্জু বিভিন্ন জায়গার খোঁজ-খবর নেন কিন্তু পাননি। তার মার বিশ্বাস ছিলো যে রণ্জুর বাবা একদিন ফিরে আসবে।সংসারের হাল ধরতে ধরতে একদিন রণ্জুও অসুস্থ্য হয়ে পড়লো। হাসপাতালে ভর্তির ১৯ দিনের মাথায় রণ্জু মারা গেল। এইযে মধ্যবিত্ত কাহিনী কত সংগ্রাম করে একটি পরিবার নিঃশ্বেষ হয়ে যাওয়ার গল্প ফুঠে উঠেছে এখানে।

লেখক পরিচিতি

হুমায়ূন আহমেদ

1948 – 2012

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার অভূতপূর্ব সৃষ্টি হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →