বইয়ের পরিচয়

“আসামী হাজির”উপন্যাসের পটভূমিকা পশ্চিমবঙ্গের একটি পল্লীগ্রাম। পরে তার ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে বিহারের ভাগলপুরে, সেখান থেকে নৈহাটিতে এবং তারপরে কলকাতার অভিজাততম অঞ্চলে। পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বলা যেতে পারে। একজন সত্যকারের সক্রিয় সৎ মানুসের ঐকান্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক মঙ্গলাকাঙক্ষার রক্তাক্ত কাহিনী এই উপন্যাস। এই উপন্যাসের নায়িকা নয়নতারা বর্তমান কালের নারী সমাজের চরম সমস্যার মূর্তিমান জিজ্ঞাসা, আর নায়ক সদানন্দ বর্তমান যুগের সামাজিক অপশাসনে রুদ্ধ আর্ত অসহায় মানব-বিবেক। বিমল মিত্র তাঁর এই উপন্যাসে যে বিশাল জগৎ সৃষ্টি করেছেন তার প্রতিটি ঘটনা এবং প্রতিটি চরিত্র এমনই বিশ্বাসযোগ্য ও হৃদয়-গ্রাহী যে, আমরা আমাদের অজ্ঞাতসারেই এই জগতের সামিল হয়ে যাই। কখন কেমন করে যেন, এ জগৎ আমাদেরই জগৎ হয়ে ওঠে। আমরা অকস্মাৎ আত্মানুসন্ধানী আত্মসচেতন হয়ে উঠি। এককথায় আমরা হয়ে বিবেক-লাঞ্ছনা থেকে পরিত্রাণ পাই। এ যিনি করতে পারেন নিঃসন্দেহে তিনি আমাদেরই লেখক, আমাদের প্রিয় লেখক।

লেখক পরিচিতি

বিমল মিত্র

1912 – 1991

বিমল মিত্র (১৮ মার্চ ১৯১২ - ২ ডিসেম্বর ১৯৯১) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তিনি বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন। কর্মজীবনে তিনি রেলে চাকুরি করতেন। তার প্রথম উপন্যাস 'ছাই'। 'সাহেব বিবি গোলাম' উপন্যাস তার অন্যতম গ্রন্থ। এরপর রেলের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্যসৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করেন। তার অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'কড়ি দিয়ে কিনলাম', 'একক দশক শতক', 'চলো কলকাতা' 'পতি পরম গুরু' ইত্যাদি। প্রায় পাঁচশোটি গল্প ও শতাধিক উপন্যাসের লেখক বিমল মিত্র তার 'কড়ি দিয়ে কিনলাম' গ্রন্থের জন্য ১৯৬৪ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হন্য। এছাড়াও বহু পুরস্কার ও সম্মান লাভ করেন। তার রচনা ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসাবে তিনি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →