বইয়ের পরিচয়

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি গোটা বাংলাদেশ। শুধু বাংলাদেশ বলছি কেন, এই যুদ্ধের অংশীদার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, ভারত সরকার। এই যুদ্ধ ছড়িয়ে গিয়েছিল সারা পৃথিবীতে। তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন, সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হেনরি কিসিঞ্জার প্রমুখ যেমন পশ্চিম পাকিস্তানকে মদদ দিয়েছে, চরিত্রহীন-লম্পট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আঁতাত করেছে; অপরদিকে ইউরোপ-আমেরিকার সাধারণ জনগণ বাংলাদেশের পক্ষে রাস্তায় নেমেছে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই কাজের নেপথ্যের মানুষদের আমরা কতটুকু জানি? আমাদের স্বাধীনতা আপনাতেই আসে নি। এর পেছনে ছিল কোটি মানুষের আত্মত্যাগ।একদিকে যেমন তাজউদ্দীন আহমদ ও তাঁর প্রবাসী সরকার নিরলসভাবে হাজারো সমস্যা মোকাবেলা করে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন, অন্যদিকে সেক্টর কমান্ডাররা পাকিস্তানি মিলিটারির সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। বাংলার হাজার হাজার দামাল ছেলেমেয়ে দেশের জন্যে প্রাণ দিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের প্রতিটা জীবনই একটি উপন্যাসের প্রেক্ষাপট। বহু গল্প বলা হয় নি, বহু গল্প জানা হয় নি, হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির আড়ালে। আবার বহু গল্প ইচ্ছে করেই আমাদের জানতে দেওয়া হয় নি।সেসব জানা-অজানা গল্প নিয়েই 'উতল হাওয়া'।

লেখক পরিচিতি

তসলিমা নাসরিন

1962 – বর্তমান

তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ২৫ আগস্ট ১৯৬২) বাংলাদেশী-সুইডিশ লেখক, চিকিৎসক, নারীবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী এবং কর্মী। তিনি নারী নিপীড়ন এবং ইসলাম ধর্মের সমালোচনা নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত; তার কিছু বই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। তিনি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য উভয় থেকেই বঙ্গীয় অঞ্চল থেকে কালো তালিকাভুক্ত এবং নির্বাসিত হয়েছেন। তিনি বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একজন উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন এবং তার রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী মতবাদ প্রচার করায় ইসলামপন্থীদের রোষানলে পড়েন ও তাদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন। তিনি ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকেরও বেশি সময় বসবাস করার পর, তিনি ২০০৪ সালে ভারতে চলে আসেন, কিন্তু ২০০৮ সালে তাকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হয়। এরপর তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ভারতে অজ্ঞাতবাসে অবস্থানের সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে বসবাস করছেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →