বইয়ের পরিচয়
রকমারি থেকে
রাউন্ড দি ওয়ার্ল্ড ইন এইট্টি ডেজ ১৮৭২। সালটা মনে রাখতে হবে। তা না হলে ফিলিয়াস ফগ-এর এই চমকপ্রদ কাহিনী কাউকেই বড় একটা চমক দিতে পারবে না। কাউকে অর্থাৎ এ-যুগের কাউকে। মনে রাখতে হবে যে ১৮৭২ সালে জেট প্লেন তো আবিষ্কৃতই হয়নি, সামুদ্রিক যানগুলিও খুব উন্নতশ্রেণীর ছিল না এবং মহাদেশগুলির এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত রেলপথও কোথাও তৈরি হয়নি, একমাত্র আমেরিকায় ছাড়া। ভারতবর্ষে একটা রেলের লাইন খুলেছে—শুনতে পাওয়া যায় বটে, কিন্তু সে লাইনে কোথা থেকে কোথায় যাওয়া যায়— সে সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা কারোই নেই। ফিলিয়াস ফগ লন্ডনে থাকে—বার্লিংটন গার্ডেন অঞ্চলে সাত নম্বর স্যাভাইল রো’তে। এই বাড়িতেই ষাট বছর আগে বাস করতেন বিখ্যাত নাট্যকার, বিখ্যাত বাগ্মী, প্রথম শ্রেণীর পার্লামেন্ট-সভ্য শেরিডান। কাজেই বাড়িটা অভিজাত শ্রেণীর বাসোপযোগী, তাতে সন্দেহ নেই। এই বাড়িতে একা থাকে ফিলিয়াস একটি মাত্র চাকর নিয়ে। বিবাহ কোন দিন করেছে বলে কেউ শোনেনি। বয়স চল্লিশের ওপরে, সুস্থ সবল দীর্ঘদেহ, শৌখিন সুবেশ, কাঁটায় কাঁটায় নিয়মনিষ্ঠ। সে-নিষ্ঠা এতই প্রবল যে তারই খাতিরে সম্প্রতি একমাত্র ভৃত্য জেমস ফস্টারকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছে ফিলিয়াস। অপরাধ? হ্যাঁ, অপরাধ তার ছিল বই কি! প্রত্যহ ছিয়াশি ডিগ্রি গরম জলে দাড়ি কামানো "অভ্যাস ফিলিয়াসের, সেদিন হতভাগা ফস্টার কি না চুরাশি ডিগ্রির জল নিয়ে এল? বেলা এগারোটা থেকে বসে আছে ফিলিয়াস। নতুন একজন চাকর আসবে কথা আছে। ফস্টারের নোটিস পেরিয়ে যাচ্ছে আজ বেলা বারোটায়। তার আগে অন্য লোক না এলে মুশকিল। এগারো থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে নতুন লোকটির আসবার কথা আছে। দেরি করলে দেখা হবে না, দেখা হয়েও লাভ নেই, কারণ কথামত হাজির হতে যে অক্ষম, তাকে ফিলিয়াস ফগ চাকরিতে বহাল করবে না কখনও।