বইয়ের পরিচয়

বৃত্তের, কারণ এখানে কপালকুণ্ডলা-নবকুমারের গল্পটাই প্রধান, মতিবিবি আর শ্যামাসুন্দরীর গল্প এই প্রধান কাহিনিটাকে নিটোল হতে সাহায্য করেছে মাত্র।আকারে 'কপালকুণ্ডলা' খুব বড় না হলেও বঙ্কিমচন্দ্র উপন্যাসটিকে বিন্যস্ত করেছেন চার খণ্ডে। প্রত্যেক খণ্ডে অবশ্য বেশ কিছু করে পরিচ্ছেদ আছে। প্রথম খণ্ডের নয়টি পরিচ্ছেদে আছে-কাপালিকের আস্তানায় নবকুমারের গিয়ে পড়া, বন্দি হওয়া, কপালকুণ্ডলার সাহায্যে সাময়িক মুক্তি, অধিকারীর পৌরোহিত্যে তাদের বিবাহ এবং মেদিনীপুর পর্যন্ত তাদের নির্বিঘ্নে এগিয়ে দিয়ে আসা। দ্বিতীয় খণ্ডের ছয়টি পরিচ্ছেদে আছে-সপ্তগ্রামে প্রত্যাবর্তন, পথে নবকুমারের প্রথমা পত্নীর সঙ্গে দেখা এবং বিনা বাধায় কপালকুণ্ডলা নবকুমারের স্ত্রী হিসেবে গৃহীত। তৃতীয় খণ্ডের সাতটি পরিচ্ছেদেই আছে-মতিবিবির সংবাদ, আগ্রায় তার প্রতিপত্তির ইতিহাস এবং সপ্তগ্রামে প্রত্যাবর্তন। চতুর্থ খণ্ডের নয়টি পরিচ্ছেদ নাটকীয় ঘটনায় পূর্ণ, কপালকুণ্ডলার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র এবং পরিণতিতে দুজনের মৃত্যুর আশংকা।ঠিকমতো কার্যকারণে শঙ্খলে সমস্ত ঘটনা বিন্যস্ত হয়েছে কিনা.....

লেখক পরিচিতি

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

1838 – 1894

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে তার অসীম অবদানের জন্যে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁকে প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে গীতার ব্যাখ্যাদাতা হিসেবে, সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। তিনি জীবিকাসূত্রে ব্রিটিশ রাজের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছদ্মনাম হিসেবে কমলাকান্ত নামটি বেছে নিয়েছিলেন। তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়। এছাড়াও তিনি বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত আনন্দমঠ (১৮৮২) উপন্যাসের কবিতা বন্দে মাতরম ১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কর্তৃক ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →