বইয়ের পরিচয়

কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টোএকমার্সেঈ বন্দর।লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে সেদিন বন্দরটা।বিদেশ থেকে কোন বাণিজ্য জাহাজ ফিরে আসবার দিন এরকম ভিড় হয়েই থাকে।খবর এসেছিল, মোরেল অ্যান্ড সন-এর ফারাওঁ নামে জাহাজখানা বন্দরে আসবে ঐদিন। তাই অতো লোকজন।জাহাজের মালিক মঁসিয়ে মোরেলও ছিলেন সেই জনতার মধ্যে। তাঁর আগ্রহাকুল দৃষ্টি তখন দূর সমুদ্রের দিকে প্রসারিত। কখন বন্দরে ঢুকবে জাহাজ—তাঁর মনে কেবল সেই চিন্তা।কিছুক্ষণ পরেই জাহাজখানা দেখতে পাওয়া গেল।ধীরে ধীরে জেটির দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো ফারাওঁ। জাহাজ তীরে এসে নোঙর ফেলবার আগেই মঁসিয়ে মোরেল জেটির কিনারে গিয়ে দাঁড়ালেন। মালিককে দেখতে পেয়েই জাহাজের একজন খালাসী একগাছা দড়ি ছুঁড়ে দিল তার দিকে।দড়িগাছা ধরে মঁসিয়ে মোরেল সুদক্ষ নাবিকের মত ঝুলতে ঝুলতে ডেক-এর উপরে উঠে পড়লেন।ডেক-এ উঠে প্রথমেই তাঁর দেখা হলো এডমন্ড দান্তের সঙ্গে। সে তখন ব্যস্তভাবে খালাসীদের নির্দেশ দিচ্ছিলো নোঙর ফেলবার ব্যাপারে।এডমন্ড বয়সে তরুণ। সুশ্রী ছিপছিপে চেহারা। অভিজ্ঞ কাপ্তেনের মতই হুকুম চালাচ্ছিল সে।মঁসিয়ে মোরেল তার কর্মকুশলতা দেখে খুশি হলেন। তিনি এগিয়ে গেলেন. তার কাছে। জিজ্ঞাসা করলেন-- তোমার মুখখানা ওরকম বিমর্ষ দেখাচ্ছে কেন এডমন্ড, খবর সব ভাল তো?-আজ্ঞে না, খবর খুবই খারাপ।—খারাপ খবর! কি হয়েছে বলো তো? মালের কোন ক্ষতি হয়েছে কি?—আজ্ঞে না, মাল ঠিকই আছে। কিন্তু আমাদের কাপ্তেন...—কাপ্তেন! কি হয়েছে তাঁর?—তিনি বেঁচে নেই ।–কি বললে? কাপেন লাকনেয়ার–আমার বিশ্বস্ত বন্ধু কাপ্তেন লাকমেয়ার