বইয়ের পরিচয়

অনেক দিন আগের কথা। তখন ইংল্যন্ড শাসন করছেন এক বৃদ্ধ ও জ্ঞানী রাজা। তাঁর নাম লিয়ার। রাজা লিয়ারের তিন কন্যা গনেরিল, রেগান, আর কর্ডেলিয়া। জ্যেষ্ঠা কন্যা গনেরিলের বিবাহ হয়েছিল আলবানির ডিউকের সঙ্গে, মধ্যমা কন্যা বিবাহ করেছিলেন কর্নওয়ালের ডিউককে, আর কনিষ্ঠা কন্যা কর্ডেলিয়াকে পত্নী রূপে পেতে আগ্রহী ছিলেন দু'জন-ফ্রান্সের রাজা এবং বার্গান্ডির ডিউক।সম্প্রতি আশি বছর পূর্ণ হয়েছে রাজা লিয়ারের। তাঁর মনে হল-আর কেন? অনেক দিন তো রাজকার্য করা গেল। জীবনের বাকি ক'টা দিন সব ছেড়েছুড়ে অন্য দিকে বরং মন দেওয়া যাক। তখন তিনি তাঁর তিন কন্যাকে ডাকলেন। আসলে তাঁর ইচ্ছে হয়েছে কোন মেয়ে তাঁকে কতখানি ভালবাসেন তা পরখ করে জানতে। তাঁর মনোবাসনা হল মেয়েদের ভিতরে রাজ্য ভাগ করে দেওয়া, তবে কে কতখানি বাপকে ভালবাসে তা যাচাই করে তার নিরিখে একেক রকম ভাবে ভাগ করে একেক মেয়েকে দেবেন। সে-কারণে তিন মেয়েকেই তিনি ডাকলেন।

লেখক পরিচিতি

উইলিয়াম শেকসপিয়র

1564 – 1616

উইলিয়াম শেকসপিয়র (; ইংরেজি: William Shakespeare ৱিলীঅ্যম্‌ শেইক্‌স্পীঅ্যর্‌; ব্যাপ্টিজম:২২ অথবা ২৩ এপ্রিল, ১৫৬৪; মৃত্যু: ২৩ এপ্রিল, ১৬১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ কবি ও নাট্যকার। তাকে ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার মনে করা হয়। তাকে ইংল্যান্ডের "জাতীয় কবি" এবং "বার্ড অব অ্যাভন" (অ্যাভনের চারণকবি) নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। তার যে রচনাগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৩৯টি নাটক, ১৫৪টি সনেট, তিনটি দীর্ঘ আখ্যানকবিতা এবং আরও কয়েকটি কবিতা। কয়েকটি লেখা শেকসপিয়র অন্যান্য লেখকদের সঙ্গে যৌথভাবেও লিখেছিলেন। তার নাটক প্রতিটি প্রধান জীবিত ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অপর যে কোনো নাট্যকারের রচনার তুলনায় অধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে। শেকসপিয়রের জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্ট্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিবাহ করেন। অ্যানির গর্ভে শেকসপিয়রের তিনটি সন্তান হয়েছিল। এঁরা হলেন সুসান এবং হ্যামনেট ও জুডিথ নামে দুই যমজ। ১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে লন্ডনে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লর্ড চেম্বারলেইন’স ম্যান নামে একটি নাট্যকোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-সত্ত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে কিং’স মেন নামে পরিচিত হয়। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগৎ থেকে সরে আসেন এবং স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছিল। শেকসপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। তার চেহারা, যৌনপ্রবৃত্তি, ধর্মবিশ্বাস, এমনকি তার নামে প্রচলিত নাটকগুলি তারই লেখা নাকি অন্যের রচনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →