বইয়ের পরিচয়
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প সমগ্র ২(কিছু অংশ)মড়িঘাটের মেলাছোট একটাআমাদের গ্রাম্য নদীর ধারে, মড়িঘাটা বলে ছোট্ট একটা গ্রাম। ক'ঘর বুনোর বাস। এ জেলায় যখন নীলকুঠীর আমল ছিল, দোর্দন্ডপ্রতাপ নীলকুঠীর সাহেবরা টম্ হুঁকিয়ে চলে যেত নদীর পাশের চওড়া ছায়াচ্ছন্ন পথ বেয়ে, তখন শ্রমিকের কাজ করবার জন্যে সাঁওতাল পরগণা থেকে যে সব লোক আমদানী করা হয়েছিল, তাদেরি বর্তমান বংশধরগণ এখন একেবারে ভাষায় ধর্মে আচারে ব্যবহারে সম্পুর্ণ বাঙালী হয়ে পড়েছে—এদেশে তাদের বলে ‘বুনো’। সমাজে নিম্নস্তরের শেষ ধাপে এদের স্থান। লোকের কাঠ কেটে, ধান মেড়ে, দিনমজুরি করে এরা জীবিকা নির্বাহ করে। সারাদিন খাটুনির পরে তাড়ি খায়। এই তাড়ি খাওয়ার জন্যেই এরা ঘৃণিত হয় পল্লীসমাজে। পল্লীগ্রামে হিন্দু বা মুসলমান চাষীমহলে মদ কেউ ছোঁয় না। ওটা ভদ্রলোকদের একচেটে ব্যাপার।মড়িঘাটা নদীপথে চার ক্রোশ আমাদের ঘাট থেকেসেবার মাঘীপূর্ণিমার দিন গঙ্গাস্নানের যাত্রীরা যাচ্ছে কেউ নবদ্বীপে কেউ গৌরনগরের ঘাটে। উভয় স্থানই বহু দূর আমাদের গ্রাম থেকে। যাদের নিজেদের গরুর গাড়ী আছে, তারা আগের রাত্রে গাড়ী চড়ে চলে গিয়েছে আঠারো-উনিশ মাইল দূরবর্তী গৌরনগরের গঙ্গাতীরের দিকে। অপেক্ষাকৃত সাহসী ও চালাকচতুর যাত্রীরা যাবে ট্রেনে উঠে নবদ্বীপ।রাধা দুধ দিতে এসে বললে—বাবু, গঙ্গাচানে গ্যালেন না?