গল্প (সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ)
পৃষ্ঠা: 340
ISBN: 984-70158-0331-7
বইয়ের পরিচয়
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ (১৯২২-৭১) বিভাগপূর্বকালে বাঙালি মুসলমান কথাসাহিত্যিকদের পথিকৃৎ শিল্পী হিসেবে বিবেচিত। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ 'নয়নচারা' ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৩৯-৪৫ পর্যন্ত সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংগঠিত হয়। দুর্ভিক্ষ ও জীবনযুদ্ধের অভিঘাত গল্পগুলোতে ভাষারূপ লাভ করেছে। স্মতব্য চারুলিপি প্রকাশিত রচনাবলি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ (ঢাকা, ২০১৫) থেকে আমি উদ্ধৃতিগুলো ব্যবহার করেছি।'নয়নচারা: গল্পগ্রন্থ প্রকাশের প্রায় দু-বছর পর পরিচয় পত্রিকার 'পুস্তক পরিচয়' বিভাগে সুশীল জানার আলোচনায় তিনি ওয়ালীউল্লাহকে মনঃসমীক্ষণাত্মক বলেছেন। এ কারণে 'রচনা জীবন-ধর্মী না হয়ে, হয়ে পড়ে ভাবধর্মী' বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। আসলে ওয়ালীউল্লাহ সাধারণ মানুষের জীবনকে গভীরতম থেকে দেখতে চেয়েছেন বলেই প্রাকৃতিক-মানসিক ও সার্বিক পরিপ্রেক্ষিতের ভিত্তিতেই তার চরিত্রগুলোকে বিনির্মাণ করেছেন এবং সফল হয়েছেন বলে আমি মনে করি।'নয়নচারা'র প্রকাশকাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির বছর। এ বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জীবনের যে অর্থনীতিক দৈন্য ও দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া-তা তীব্রভাবে নামগল্প 'নয়নচারা'য় অভিব্যক্ত হয়েছে।'যনারমল কালো রাতে জনশূন্য প্রশস্ত রাস্তাটাকে ময়ূরাক্ষী নদী বলে কল্পনা করতে বেশ লাগে।'- ভাষ্যের মধ্যদিয়ে 'নয়নচারা' গল্পটি শুরু। আমু, ভূতনি, ভুতো এবং করিম মিঞা প্রমুখ চরিত্র নিয়ে গল্পটি রচিত। ভুতো খাদ্যাভাবে ও রোগভোগে মারা যায়। ভুতনি শুধু কাশে। অসুস্থ ও ক্ষুধার্ত। আমু ক্ষুধার তাড়নায় পর্যুদস্ত ও জীবনযুদ্ধে পরাজিত।