চলে যায় বসন্তের দিন বইয়ের প্রচ্ছদ

চলে যায় বসন্তের দিন

লেখক: হুমায়ূন আহমেদ

পৃষ্ঠা: 352

ISBN: 9789843530691

বইয়ের পরিচয়

ভূমিকা -এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক। কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা উদ্দেশ্য নিয়ে এর পটভূমি চিত্রায়িত হয়নি। বাস্তবের সঙ্গে কোনো ঘটনার কোথাও, কোনো মিল নেই। যদি কোনো চরিত্রের, নামের বা ঘটনার সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যায়, সেটা কাকতাল ছাড়া আর কিছুই না।কাহিনি সংক্ষেপরাজনীতির প্রতি আগ্রহ না থাকলেও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর, পিয়াস ঘটনাক্রমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। বাবা-মা এবং স্বজনেরা, তার এই রাজনৈতিক জীবন নিয়ে সারাক্ষণ উৎকন্ঠিত থাকে। রাজনীতিতে পিয়াসের সম্পৃক্ততা যত বাড়তে থাকে, পরিবার থেকে রাজনীতি ছাড়ার তাগিদও ততই বাড়তে থাকে। এদিকে আবার রাজনীতির কারণেই বেলার সঙ্গে পিয়াসের পরিচয় হয়। মনের অজান্তেই বেলাকে সে ভালোবেসে ফেলে। শুরু হয় পিয়াস-বেলার প্রেমের আখ্যান।পিয়াস রাজনীতিতে যত গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছিল, এর কদর্য দিকগুলো ওর চোখের সামনে ততই উন্মুক্ত হচ্ছিল। সে রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে, যখনই সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল, তখনই তার জীবনে শুরু হলো, নতুন, নতুন জটিলতা। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় শেষ পর্যন্ত তাকে দেশ ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো। অসহনীয় যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে, একসময় পিয়াস পাড়ি জমায় পরবাসে। এদিকে বেলা দিন গুনতে থাকে, কবে সে পৌঁছাতে পারবে প্রাণেশ্বরের কাছে। ঘটনা আর দুর্ঘটনার বিভিন্ন মোড়ে বাঁক নিয়ে, কাহিনি এগিয়ে যেতে থাকে। ঋতুর আবর্তে বসন্ত আসে। তাদের জীবনেও বসন্তের আগমনী ধ্বনি বেজে ওঠে। তারপর আবারও কঠিন এক মোড় আসে জীবনে……

লেখক পরিচিতি

হুমায়ূন আহমেদ

1948 – 2012

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার অভূতপূর্ব সৃষ্টি হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →