বইয়ের পরিচয়

"চলো দিকশূন্যপুর” বইয়ের কথা:নীলু একদিন সােজা চলে এলাে। মা দিকশূন্যপুর। এখানে আছে ওর। বন্দনাদি শহরের কোলাহল থেকে বহুদূরে স্বাবলম্বী জীবনযাপনে বন্দনাদি তৃপ্ত, সুখী। দিকশূন্যপুর সব দিক থেকেই এক স্বপ্নিল রাজ্য। এখানে কেউ অযথা কৌতূহল প্রকাশ করে না, কেউ কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাথা ঘামায় না। একদিন নীলুর সঙ্গে রােহিলার পরিচয় করিয়ে দেয় বন্দনাদি। কিন্তু প্রথম দেখায় নীলুর মনে হয়, রােহিলা পাগল। কিন্তু কেন ? বাসুদেবন নামে একটি লােক কেন তাকে সুলােচনা নামে ডাকে ? তার স্ত্রী বলে দাবি করে ? এই নাম শুনলে কেন রােহিলা উন্মাদের মতাে ব্যবহার করে ? সত্যিই কি তার নাম সুলােচনা ! নীলুর কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, এক গভীর আত্মিক সংকটে ভুগছে মেয়েটি। এর থেকে মুক্তির উপায় কি দিকশূন্যপুরের উদার প্রকৃতিতে নেই ? নীললােহিতের এই রম্য উপন্যাসে তারই উত্তর।

লেখক পরিচিতি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

1934 – 2012

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ – ২৩ অক্টোবর ২০১২) বিশ শতকের শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসাবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষার জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বাংলা ভাষায় এই ভারতীয় সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তার কবিতার বহু পঙ্‌ক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত", "সনাতন পাঠক", "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায়। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। ১৯৫৩ সাল থেকে তিনি কৃত্তিবাস নামে একটি কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ একা এবং কয়েকজন এবং ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম উপন্যাস আত্মপ্রকাশ প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হল আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে), হঠাৎ নীরার জন্য, রাত্রির রঁদেভূ, শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা, অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ ইত্যাদি। শিশুসাহিত্যে তিনি "কাকাবাবু-সন্তু" নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য অকাদেমি ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর আকাদেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →