বইয়ের পরিচয়

নবপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মিঃ জিন্নাহ্ ছিলেন করাচি কেন্দ্রিক স্থানীয় ও ভারত প্রত্যাগত ব্যবসায়ী-শিল্পপতি-শিক্ষিত-পেশাজীবী সমন্বিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি। কাজেই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শক্তিশালী সামাজিক শক্তির অধিকারী সামন্ত অভিজাতদের যথাসম্ভব এড়িয়ে চলেন এবং আমলা ও ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করেন। ফলে অচিরেই সামরিক-বেসামরিক আমলা চক্র দেশটির দণ্ডমুণ্ডের কর্তারূপে আবির্ভূত হয়।'এই আমলাচক্র দেশের ওপর তাদের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ ও স্থায়ী করার লক্ষ্য নিয়ে এগুতে থাকে। শাসকচক্রের আনুকূল্যে গড়ে ওঠা নব্য ধনিক গোষ্ঠী শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের উভয় অংশের কোন কোন সুযোগ সন্ধানী রাজনৈতিক দল-গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বিশেষ সহযোগী শক্তি হিসাবে তাদের পাশে দাঁড়ায়।

লেখক পরিচিতি

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

1943 – 1997

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ - ৪ জানুয়ারি ১৯৯৭) ছিলেন বাংলাদেশি ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, এবং অধ্যাপক। তিনি একজন স্বল্পপ্রজ লেখক ছিলেন। বাস্তবতার নিপুণ চিত্রণ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক জ্ঞান, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম কৌতুকবোধ তার রচনাকে দিয়েছে ব্যতিক্রমী সুষমা। তাকে সমাজবাস্তবতার অনন্যসাধারণ রূপকার বলা হয়েছে। তার রচনাশৈলী স্বকীয় ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ। ইলিয়াস গাইবান্ধায় জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকে তার লেখালেখির শুরু। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে তার প্রথম ছোটগল্প সংকলন অন্য ঘরে অন্য স্বর প্রকাশিত হয়। তার প্রথম উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে, যেটির জন্য তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ও সর্বশেষ উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬) বাংলা সাহিত্যের গুরত্বপূর্ণ সংযোজন। তার পাঁচটি ছোটগল্প সংকলন আর একটি প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। জীবদ্দশায় সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩) ও আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৬) এবং মরণোত্তর একুশে পদক (১৯৯৯) ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০১৪) লাভ করেন। তার রচনা একাধিক ভাষায় অনুদিত হয়েছে, তার সৃষ্টিকর্মের অভিযোজনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন ও মঞ্চনাটক। ১৯৯৭ সালের তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →