বইয়ের পরিচয়

"জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা" বইয়ের ফ্ল্যাপের কথা:১৯৭১ সাল রক্তসংগ্রামের এক অসহায় দিন। বাঙালি লড়ছে তার প্রাণের তাগিদে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণে মত্ত। সেই পৈশাচিক উল্লাসের বিরুদ্ধে, অস্তিত্বের মর্মমন্ত্রে জেগে উঠেছিল এদেশের মুক্তিকামী সাধারণ অথচ প্রত্যয়ী মানুষ। গণমানুষের সেই মুক্তিকাক্ষাই তাদের যােদ্ধা বানিয়ে দেয়। জনযুদ্ধের সেই অশ্রুসিক্ত বীরতগাথার উপাখ্যানে যারা মহান চরিত্র, গণমানুষের সেই আত্মত্যাগ, সাহসী স্বপ্নের দিন, দিনে দিনে বিস্মৃত প্রায় আজ। মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া, নিজে যখন গণযােদ্ধাদের একজন, এক অতলস্পর্শী সহমর্মিতায় তুলে ধরেছেন সেইসব যােদ্ধার অনালােচিত অধ্যায়, দৃপ্তকাহিনী। যার নেপথ্যে রয়েছে আত্মগত ভালােবাসা, অপরিসীম শ্রদ্ধা। জনযুদ্ধের গণযােদ্ধা তাই আমাদের আত্মােপলব্ধির উচ্চারণ, ফিরে দেখার দায়বদ্ধতা। সুচারু গ্রন্থনায় এ এক অবারিত সমাবেশ। যেমন তিনিই প্রথম। বীরশ্রেষ্ঠদের যুদ্ধগাথা লিখেছেন- আবার নাম না জানা, অজস্র অচেনা তবু সমধিক বীরের কাহিনীও। তিনিই রচনা করেছেন এই গ্রন্থে- জনযুদ্ধের। গণযােদ্ধায়।

লেখক পরিচিতি

মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া

1952 – 2018

কামরুল হাসান ভূঁইয়া (জুলাই ২৪, ১৯৫২ – আগস্ট ০৬, ২০১৮) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। == জন্ম ও শিক্ষাজীবন == কামরুল হাসান ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলায় ১৯৫২ সালের ২৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।পড়াশোনা করেছেন যশোর জিলা স্কুল ও ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে। ১৯৮৩ সালে চীনা ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন বেইজিং ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। == কর্মজীবন == ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই মেজর পদমর্যাদায় থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। == মুক্তিযুদ্ধে যোগদান == ১৯৭১ সালে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন কামরুল হাসান ভূঁইয়া। দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে যোগ দেন তিনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। == প্রকাশিত বই == তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৩টি, সামরিক ইতিহাসের ওপর লেখা ১টি এবং শিশুতোষ গ্রন্থ ৩টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই হলো: জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা বিজয়ী হয়ে ফিরব নইলে ফিরবই না ২ নম্বর সেক্টর এবং কে ফোর্স কমান্ডার-খালেদের কথা (সম্পাদিত) একাত্তরের কন্যা, জায়া, জননীরা পতাকার প্রতি প্রণোদনা মুক্তিযুদ্ধে শিশু-কিশোরদের অবদান একাত্তরের দিনপঞ্জি == মৃত্যু == কামরুল হাসান ভূঁঈয়া ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট দুপুর ২টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যু বরণ করেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →