বইয়ের পরিচয়

উইকিপিডিয়া থেকে

ঝরা পালক ( () কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) ভারতের কলকাতা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উইকিপিডিয়ায় সম্পূর্ণ পড়ুন ↗

রকমারি থেকে

"ঝরা পালক" বইটির ভূমিকা থেকে নেয়াঃ ‘ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থে শিল্পগত পরিশুদ্ধির অভাব হয়তাে আছে; কিন্তু এ পরিশুদ্ধিহীনতার জগৎ থেকে কবির অন্বেষণ শুরু হয়ে যায় পরবর্তীকালের জন্য। জীবনানন্দের বােধের জগতে ‘বনলতা সেন' যদি চূড়ান্ত সিদ্ধি করায় ও করে, তবে ‘ঝরা পালকে তার সূচনা; আর ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির; ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘বেলা-অবেলা-কালবেলা'তে তার ক্রম-বিস্তাৰ্যমানতা। অর্থাৎ, ১৯২৭-২৮ থেকে ১৯৬১ পর্যন্ত জীবনানন্দের কাব্য ও মনন-সাধনার বিবর্তিত স্তর প্রতিভাত হয় উক্ত কাব্যগ্রন্থগুলির ভাবপ্রকাশে ও শিল্পগত কৌশলে। জীবনানন্দের প্রথম কাব্য ‘ঝরা পালকের’ (১৯৭২) অনেক কবিতায় সমকালীন কলকাতার অর্থনৈতিক স্থিতিহীনতার চিত্র অঙ্কিত। প্রথম মহাযুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক মন্দাবস্থায় বৃহদায়তন শিল্প প্রতিষ্ঠার ফলে গ্রামনির্ভর অর্থনীতিতে তীব্র আঘাত পরিলক্ষিত হচ্ছিল। অসম প্রতিযােগিতায় দেউলিয়া কুটিরশিল্পের অনেক শিল্পী এবং কৃষকরা কর্মসংস্থানের জন্য কলকাতায় আসতে শুরু করেছে। কলকাতার এ বিশেষ বৈশিষ্ট্য বর্ধিত জনতার চাপে বিপর্যস্ত রূপ জীবনানন্দকে আলােড়িত করে। অর্থনৈতিক দিকটি ব্যতীত ছিল ‘কল্লোলের কোলাহল', মােহিতলাল-নজরুল, যতীন্দ্রনাথের কবিতার ভিন্ন কণ্ঠস্বর; রবীন্দ্রঅস্বীকার ও রবীন্দ্র-স্বকীরণ-এ দুই শিবিরে বিভক্ত কবি-মানসিকতার অমেয় পার্থক্য জীবনানন্দের 'ঝরা পালক’-এ রূপায়িত হয়েছে।

Goodreads থেকে

ঝরা পালক কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) ভারতের কলকাতা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে মোট পঁয়ত্রিশটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কবিতাগুলোর শিরোনাম হলোঃ আমি কবি—সেই কবি নীলিমা নব-নবীনের লাগি কিশোরের প্রতি মরীচিকার পিছে জীবন-মরণ দুয়ারে আমার বেদিয়া নাবিক বনের চাতক—মনের চাতক সাগর-বলাকা চলছি উধাও কদিন খুঁজেছিনু যারে আলেয়া অস্তচাঁদে ছায়া-প্রিয়া ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল কবি সিন্ধু দেশবন্ধু বিবেকানন্দ হিন্দু-মুসলমান নিখিল আমার ভাই পতিতা ডাহুকী শ্মশান মিশর পিরামিড মরুবালু চাঁদিনীতে দক্ষিণা সে কামনা নিয়ে স্মৃতি সেদিন এ-ধরণীর ওগো দরদিয়া সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়

সূত্র: Goodreads ↗

লেখক পরিচিতি

জীবনানন্দ দাশ

1899 – 1954

জীবনানন্দ দাশ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ - ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃৎদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মেলে৷ মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, তত দিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, যার ফলে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷ বুদ্ধদেব বসু তাঁকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ অন্যদিকে, অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁকে ‘শুদ্ধতম কবি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচকদের অনেকে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি বলে মনে করেন। জীবনানন্দের বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়৷ ১৯৫৫ সালে শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটি ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করে। জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে রূপসী বাংলা, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, বেলা অবেলা কালবেলা, শ্রেষ্ঠ কবিতা ইত্যাদি৷ জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন৷ তবে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বে তিনি ২১টি উপন্যাস এবং ১২৮টি ছোটগল্প রচনা করেছিলেন যার একটিও তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি৷ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তিনি দিনাতিপাত করেছেন৷ বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে অনপনেয়ভাবে বাংলা কবিতায় তার প্রভাব মুদ্রিত হয়েছে কবি জীবনানন্দ দাশের ব্যক্তিগত ও সাহিত্যিক জীবন এবং তাঁর সাহিত্যকর্মের পর্যালোচনা ও গবেষণার জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →