বইয়ের পরিচয়

এই কাহিনি এক জজ কোর্ট চত্বরের। বিচিত্র পেশার ও অদ্ভুত গড়নের জনতার ভিড় সেখানে। কারও আগমন মামলার কারণে, কারও পেশার প্রয়োজনে, কেউ-বা অবশ্যই পেটের দায়ে। মামলা মোকদ্দমা অফিস কাছারির কাজ ফুরোলে চত্বর হয় জনশূন্য, থেকে যায় কেবল পেট আর পেশার দায়ে ভোগা মানুষ; যাদের সাধারণ পরিচয় ক্যানভাসার। ছোট্ট ডুগডুগি বাজিয়ে এখানে আসা মানুষকে যারা আহ্বান জানায়। এই ক্যানভাসারদের ভিতরে বয়সি মোসলেম উদ্দিন, আদালতের আঙিনায় কাপড় ধোয়ার পাউডার বিক্রি যার ভাত জোগায়। আছে গাছতলায় প্রবীণ বইবিক্রেতা বারিক। কিন্তু কাহিনির মূলস্রোত বয়ে চলে বানরের খেলা দেখানো আজগর আর খেলাওয়ালা সুকুমারকে নিয়ে। সঙ্গে আছে আরও কয়েকজন। এখানে একই সঙ্গে তারা বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের কেউ দেখায় সাপের কারসাজি, কেউ বেচে কবিরাজি গাছগাছড়া, কেউ কান পরিষ্কার করে, কেউ দাঁত তোলে। এদিকে আজগর আর সুকুমারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্রোতের শ্যাওলার মতো ভেসে আসা দুই নারী, জরিনা ও ঝিলিক। রহস্যময়ী জরিনা শত অনটনেও আজগরের সঙ্গেই থাকে। ওদিকে গন্তব্যহীন ঝিলিক যেমন এসেছিল, সেভাবেই হঠাৎ নিরুদ্দিষ্ট হয়। এইসমস্ত সর্বহারার জীবন পরম মমতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে এই উপন্যাসে। এমন ছিন্নমূল বেঁচে-থাকার কথা ইতিপূর্বে এভাবে বলা হয়নি।

লেখক পরিচিতি

প্রশান্ত মৃধা

1971 – বর্তমান

প্রশান্ত মৃধা (২০ নভেম্বর ১৯৭১) বাংলাদেশের একজন সাহিত্যিক। গল্প-উপন্যাস লেখার পাশাপাশি প্রবন্ধ ও সাহিত্যিক কলামসহ অন্যান্য গদ্য লিখে থাকেন। সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের জন্য ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কথাসাহিত্য পুরস্কার, ২০১০ সালে কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার, ২০১৭ সালে সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার, এবং ২০১৮ সালে জেমকন সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →